ইরান-আমেরিকা সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতাকারী হতে চায় পাকিস্তান

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, আমেরিকা ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ থামাতে সক্রিয় ভূমিকা নিতে আগ্রহী পাকিস্তান। সোমবার রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন পাক সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির। অন্যদিকে, পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ একই বিষয়ে আলোচনা করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসাউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে। শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তান যেকোনো স্থানে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের আয়োজন করতে প্রস্তুত বলে দুই রাষ্ট্রপ্রধানকেই আশ্বস্ত করা হয়েছে।
পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির পাকিস্তান দিবসের ভাষণে বিশ্বশান্তি রক্ষায় দেশের বিশেষ ভূমিকার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। কূটনৈতিক মহলের মতে, ট্রাম্পের সঙ্গে মুনিরের সুসম্পর্ক এই আলোচনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের রিপোর্ট অনুযায়ী, ট্রাম্প এই প্রস্তাবে আগ্রহ দেখিয়েছেন এবং পাকিস্তানের কোনো শহরে হোয়াইট হাউস ও ইরানি প্রতিনিধিদের বৈঠকের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে ইসরায়েল ও ইরান এই মধ্যস্থতায় শেষ পর্যন্ত কতটা সায় দেবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
পাকিস্তানের এই উদ্যোগের নেপথ্যে দেশের অভ্যন্তরীণ জনমত ও ধর্মীয় সংহতি কাজ করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইরানে ইসরায়েল-মার্কিন হামলার প্রতিবাদে পাকিস্তানে তীব্র গণবিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে ইসলামাবাদ এই কূটনৈতিক পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুসহ ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে দ্রুত আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে পাকিস্তান প্রশাসন।