ইরান ইজরায়েল যুদ্ধের আবহে সোনার দামে ব্যাপক অস্থিরতা, বিপাকে পড়তে পারেন গোল্ড লোন গ্রাহকরা

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্ববাজারে হু হু করে বাড়ছে সোনার দাম। এই পরিস্থিতিতে গোল্ড লোন বা স্বর্ণঋণ গ্রহণকারীদের জন্য বড়সড় সতর্কবার্তা দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে গোল্ড লোনের চাহিদা প্রায় ১২৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩.৩ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। কিন্তু এই দাম বৃদ্ধি গ্রাহকদের জন্য যেমন সুযোগ এনেছে, তেমনই তৈরি করেছে চরম ঝুঁকি।
ঋণগ্রহীতাদের জন্য প্রধান ঝুঁকি ও বর্তমান পরিস্থিতি
- নিলামের ভয়: সোনার দাম সাময়িকভাবে বাড়লেও ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে দাম হঠাৎ পড়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে লোনের মার্জিন কমে গেলে ব্যাঙ্ক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান দ্রুত গয়না নিলাম করার প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে।
- পরিশোধের চাপ: অনেক ক্ষেত্রে ‘বুলেট রিপেমেন্ট’ পদ্ধতিতে লোন নেওয়া হয়। সময়মতো আসল ও সুদ না মেটালে গয়না হারানোর প্রবল সম্ভাবনা থাকে।
- লোন টু ভ্যালু (LTV) রেশিও: বর্তমানে সোনার দাম বেশি থাকায় গয়নার মূল্যের ওপর সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত লোন মিলছে। কিন্তু বাজার পড়ে গেলে এই ঋণের বোঝা গ্রাহকের ওপর মানসিক ও আর্থিক চাপ তৈরি করবে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
এসএমসি গ্লোবাল সিকিউরিটিজ এবং ব্যাঙ্কবাজারের আধিকারিকদের মতে, বর্তমানে সোনার দামের এই উত্থান মূলত আবেগতাড়িত ও অনিশ্চয়তা নির্ভর। তাই সুনির্দিষ্ট রিপেমেন্ট প্ল্যান বা পরিশোধের পরিকল্পনা ছাড়া এই মুহূর্তে বড় অঙ্কের গোল্ড লোন নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। ব্যক্তিগত ঋণের তুলনায় গোল্ড লোনের সুদের হার (৯-১৫ শতাংশ) কিছুটা কম হলেও, বাজার পড়ে গেলে গ্রাহককে অতিরিক্ত অর্থ জমা দিয়ে লোন অ্যাকাউন্ট সমন্বয় করতে হতে পারে।