ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের আবহে ভারতের প্রশংসায় পঞ্চমুখ তেহরান, মধ্যস্থতায় বড় ভূমিকার সম্ভাবনা

আমেরিকা, ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলা যুদ্ধ এক মাস পেরিয়ে গেলেও সংকটের কোনো সমাধান মেলেনি। বিশেষ করে ‘হোরমুজ প্রণালী’ পুনরায় খুলে দেওয়া বা যুদ্ধবিরতি নিয়ে পাকিস্তান, মিশর ও তুরস্কের মতো দেশগুলো মধ্যস্থতার চেষ্টা চালালেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। এই জটিল পরিস্থিতিতে ভারতের ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতির ভূয়সী প্রশংসা করেছে ইরান।
ভারতে নিযুক্ত ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি আব্দুল মজিদ হাকিম ইলাহি সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে জানিয়েছেন, বর্তমান সংকট নিরসনে ভারত অত্যন্ত বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। তিনি ভারতীয় কূটনীতির প্রশংসা করে বলেন, শান্তি বজায় রাখতে নয়াদিল্লির বিশেষ অবস্থান রয়েছে। উল্লেখ্য, হোরমুজ প্রণালী খোলার বিষয়ে ইরানকে ট্রাম্পের দেওয়া চরমসীমার মধ্যেই তেহরানের পক্ষ থেকে এমন ইতিবাচক বার্তা এল।
সম্প্রতি ইরানি রাষ্ট্রদূত মহম্মদ ফতালিও ভারতের বিদেশনীতির প্রশংসা করেছিলেন। তাঁর মতে, নয়াদিল্লির নিরপেক্ষ ও গঠনমূলক অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমিত করতে এবং আলোচনার পথ প্রশস্ত করতে সহায়ক হতে পারে। ভারতের এই বিশেষ কূটনৈতিক গুরুত্বের কারণেই তেহরান বর্তমান পরিস্থিতিতে নয়াদিল্লিকে অন্যতম প্রধান অংশীদার হিসেবে দেখছে।
এদিকে ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। আরাগচি অভিযোগ করেছেন যে, ইজরায়েল ও আমেরিকা ইরানের পরমাণু কেন্দ্র এবং জনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। তিনি সতর্ক করেন যে, এই হামলার প্রভাব সমগ্র বিশ্বের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার ওপর পড়তে পারে। তবে ইরান নিজের স্বার্থ রক্ষায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলেও তিনি জানান।
হোরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় বর্তমানে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী। পারস্য ও ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে শুধুমাত্র ইরানের মিত্র দেশগুলোর জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আমেরিকা ও ইজরায়েলি জাহাজের জন্য এই পথ বর্তমানে অবরুদ্ধ। পশ্চিম এশিয়া ভারতের জ্বালানি আমদানির প্রধান উৎস হওয়ায় হোরমুজ প্রণালীর এই অচলাবস্থা ভারতের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভারত গত কয়েক সপ্তাহ ধরে নিরবচ্ছিন্ন শক্তি সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং যুদ্ধ বন্ধের জন্য নিরলস কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নয়াদিল্লির আশঙ্কা, এই অবরোধ দীর্ঘস্থায়ী হলে ভারতসহ বিশ্বের বহু দেশের জ্বালানি ও সার নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে ইরান ও ভারতের ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক যোগাযোগ আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।