ইরান ইজরায়েল যুদ্ধে চরম উত্তেজনা, মোদী ডাকলেন জরুরি বৈঠক কি বড় সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে ভারত

মধ্যপ্রাচ্যে ঘনিয়ে আসা যুদ্ধের কালো মেঘ এবং ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের ভয়াবহতায় কাঁপছে বিশ্ব। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ নিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এবং ভারতের পরবর্তী কৌশল নির্ধারণ করতে দিল্লিতে উচ্চপর্যায়ের কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা কমিটির (CCS) জরুরি বৈঠক ডেকেছেন তিনি। আজ রাত সাড় ৯টায় এই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের লেলিহান শিখা এবং খামেনেইর মৃত্যু
শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাত এখন চরম আকার ধারণ করেছে। ইজরায়েলি হামলার পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে রণক্ষেত্র হয়ে উঠেছে ইরান। এর মধ্যেই আমেরিকা সরাসরি এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। সূত্রের খবর, আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই এবং তাঁর পরিবারের চার সদস্য নিহত হয়েছেন। এই মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই ইরান আরও আগ্রাসী হয়ে উঠেছে। তেহরান ইতিমধ্যেই তাদের নতুন শীর্ষ নেতার নাম ঘোষণা করেছে এবং বিশ্বের যেসব দেশে মার্কিন সেনা ঘাঁটি রয়েছে, সেখানে পাল্টা হামলা শুরু করেছে।
সঙ্কটে ভারতীয় নাগরিকরা এবং বিশ্ব অর্থনীতি
এই যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারতেও। ইরান, ইজরায়েল এবং দুবাইয়ের মতো বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোতে কয়েক হাজার ভারতীয় নাগরিক আটকে পড়েছেন। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বিমান পরিষেবা বিপর্যস্ত হওয়ায় তাঁদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে, তেলের দাম বৃদ্ধি এবং বিশ্বজুড়ে সাপ্লাই চেইন বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা ভারতীয় অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
মোদীর জরুরি বৈঠক এবং ভারতের অবস্থান
এই সংকটময় মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী মোদীর ডাকা নিরাপত্তা কমিটির বৈঠকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বিদেশমন্ত্রী এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রীসহ দেশের শীর্ষ নিরাপত্তা আধিকারিকরা।
- আটকে পড়া ভারতীয়দের উদ্ধার: ইরান ও দুবাইয়ে আটকে থাকা ভারতীয়দের দ্রুত দেশে ফেরাতে কোনো বিশেষ উদ্ধার অভিযান চালানো হবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
- কূটনৈতিক অবস্থান: এই ত্রিমুখী যুদ্ধে ভারত কোন পথে হাঁটবে এবং বিবাদমান পক্ষগুলোর সঙ্গে কীভাবে যোগাযোগ রক্ষা করবে, তা ঠিক করা হবে।
- জাতীয় নিরাপত্তা: মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার জেরে ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর কী প্রভাব পড়বে, তার আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
গোটা বিশ্বের নজর এখন দিল্লির এই বৈঠকের দিকে। যুদ্ধের ভয়াবহতা রুখতে বা নিজের নাগরিকদের সুরক্ষিত রাখতে ভারত সরকার কী বড়সড় ঘোষণা করে, এখন সেটাই দেখার।