ইরান ও আমেরিকার যুদ্ধবিরতি কি কেবল সময়ের অপেক্ষা নাকি নতুন সংঘাতের ইঙ্গিত

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে ঘনিয়ে আসা যুদ্ধের কালো মেঘ সাময়িকভাবে কাটলেও কাটেনি আশঙ্কার দোলাচল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার মাত্র ৯০ মিনিট আগে নাটকীয়ভাবে দু’সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইরান, আমেরিকা ও ইজরায়েল। তবে এই সমঝোতাকে খোদ মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভান্স ‘ভঙ্গুর’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। একদিকে তেহরানের রাজপথে যখন উল্লাস চলছে, অন্যদিকে ইজরায়েল লেবাননে তাদের সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে অনড় অবস্থান নিয়েছে।
যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপট ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতা
ভয়াবহ সংঘাতের আশঙ্কায় যখন বিশ্ব কাঁপছিল, ঠিক তখনই পাকিস্তানের প্রস্তাবিত শান্তি প্রক্রিয়ায় সাড়া দেয় ওয়াশিংটন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের অনুরোধে ট্রাম্প ইরানে ‘ধ্বংসাত্মক বাহিনী’ পাঠানোর সিদ্ধান্ত স্থগিত করেন। আগামী শুক্রবার থেকে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এই সংকটের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
ট্রাম্পের শর্ত ও ইরানের অনড় অবস্থান
যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রধান শর্ত হিসেবে হরমুজ প্রণালী অবিলম্বে খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে ইরানও পালটা ১০ দফা শর্ত ছুড়ে দিয়েছে। তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে, গাজা ও লেবাননে হামলা বন্ধ না হলে তারাও ইজরায়েলে মিসাইল বর্ষণ অব্যাহত রাখবে। শুধু তাই নয়, ওমানকে সঙ্গে নিয়ে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য মাশুল আদায়ের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে ইরান।
অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ ও ভবিষ্যৎ সংকট
এই যুদ্ধবিরতিকে কেন্দ্র করে নিজ নিজ দেশে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। আমেরিকার ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের পদত্যাগ দাবি করেছেন এবং ইজরায়েলের বিরোধী দলনেতা একে ‘রাজনৈতিক বিপর্যয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ক্ষতিপূরণের শর্ত মেনে নিলে ইজরায়েলের ওপর বড় ধরনের আর্থিক বোঝা চাপবে, যা ভবিষ্যতে আমেরিকা ও ইজরায়েলের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে ফাটল ধরাতে পারে।
অমীমাংসিত প্রশ্ন ও অনিশ্চয়তা
আপাতত দুই সপ্তাহের জন্য অস্ত্রবিরতি ঘোষণা হলেও বেশ কিছু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে:
- হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে?
- ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও ইউরেনিয়াম ভাণ্ডারের ভবিষ্যৎ কী?
- হিজবুল্লার ওপর ইজরায়েলি হামলা চললে ইরান কি চুপ থাকবে?
ইসলামাবাদে শুরু হতে যাওয়া আলোচনা এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে পারে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে আছে বিশ্ব।