ইরান ও আমেরিকার যুদ্ধে উত্তাল হোরমুজ প্রণালী। ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটামকে তোয়াক্কা না করে পাল্টা হুঁশিয়ারি তেহরানের

ইরান ও আমেরিকার যুদ্ধে উত্তাল হোরমুজ প্রণালী। ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটামকে তোয়াক্কা না করে পাল্টা হুঁশিয়ারি তেহরানের

তেহরান ও ওয়াশিংটন। ইরান এবং আমেরিকার মধ্যকার যুদ্ধ এখন চরম উত্তেজনার শিখরে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতি কার্যত থমকে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে হোরমুজ প্রণালী নিয়ে তৈরি হয়েছে এক ভয়ঙ্কর অচলাবস্থা। বিশ্বের এলপিজি গ্যাস এবং অপরিশোধিত তেল সরবরাহের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি কার্যত অচল হয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে তেলের আকাশচুম্বী দাম নিয়ে হাহাকার শুরু হয়েছে। বহু দেশে জারি হতে চলেছে জরুরি অবস্থা।

এই সংকট কাটাতে ওয়াশিংটন সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছে। মার্কিন প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হোরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না করলে ইরানের জ্বালানি প্রকল্পগুলোতে ভয়াবহ হামলা চালানো হবে। হোরমুজকে সচল করতে সেখানে মার্কিন সেনাবাহিনী নামানোর প্রস্তুতিও চূড়ান্ত বলে খবর।

তবে আমেরিকার এই রক্তচক্ষুকে বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দিচ্ছে না ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেছেন, কোনো বিমা কো ম্পা নি বা বিদেশের হুমকির কাছে ইরান মাথা নত করবে না। সম্মানজনক ভাষায় কথা না বললে পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হবে না।

ইরানের দাবি অনুযায়ী, তারা আনুষ্ঠানিকভাবে হোরমুজ প্রণালী বন্ধ করেনি। কিন্তু যুদ্ধের পরিস্থিতির কারণে কোনো জাহাজই সেখানে প্রবেশের সাহস দেখাচ্ছে না। তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, হোরমুজ এখন ইরানের কড়া পাহারায় রয়েছে। শত্রুদেশ বা তাদের মদতপুষ্ট কোনো দেশের জাহাজকে সেখান দিয়ে যেতে দেওয়া হবে না। নিজেদের আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করে ইরান জানিয়ে দিয়েছে যে, তাদের এই জলপথ কোনোভাবেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। হোরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে এখন পরমাণু শক্তিধর আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে এক মহাপ্রলয়ের সংকেত দেখছে গোটা বিশ্ব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *