ইরান ও আমেরিকার সামরিক সংঘাত তীব্র তুঙ্গে, নিখোঁজ পাইলটের সন্ধানে হন্যে হয়ে তল্লাশি

মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাত এক ভয়াবহ মোড় নিয়েছে। সোমবারের মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই সময়সীমার মধ্যে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, ইরানে মার্কিন বিমান ভূপাতিত হওয়ার পর নিখোঁজ পাইলটের সন্ধানে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্য প্রদানের বিনিময়ে পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এই সংঘাতের আবহে ইসরায়েলও ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করতে তাদের হামলা আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে। সম্প্রতি ইরানের একটি পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর পাল্টা জবাবে ইরানের সামরিক কমান্ডার আলী আবদুল্লাহি আলিয়াবাদি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক অবকাঠামোগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হবে। এই পাল্টাপাল্টি হুমকিতে গোটা বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ছে।
যুদ্ধের আঁচ পড়েছে আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও অর্থনীতিতেও। ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণার পর আর্জেন্টিনা সে দেশে নিযুক্ত ইরানের কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে। এদিকে সংঘাতের জেরে জ্বালানির দাম প্রায় দ্বিগুণ হওয়ায় সেনেগাল সরকার তাদের কর্মকর্তাদের অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। প্রধানমন্ত্রী উসমান সোনকো জানান, তেলের উচ্চমূল্যের কারণে বাজেট ঘাটতি এড়াতে এই ব্যয় সংকোচন নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
অর্থনৈতিক অস্থিরতা আবাসন বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ঋণের সুদের হার এক ধাক্কায় ৬.৪৬ শতাংশে পৌঁছানোয় সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বাড়ি কেনা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, যুদ্ধের অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের পিছু হটতে বাধ্য করছে। এমনকি নিখোঁজ পাইলটের ভাগ্য নিয়ে অনলাইন বেটিং মার্কেট চালু করায় প্রবল জনরোষ তৈরি হয়েছে, যার ফলে নৈতিক কারণে সেই প্ল্যাটফর্মগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
সার্বিক এই অশান্ত পরিস্থিতির মধ্যে পোপ লিও চতুর্দশ ইস্টার ভিজিল পরিষেবা চলাকালীন বিশ্বজুড়ে শান্তি ও সংহতির আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি হিংসার পথ পরিহার করে মানবিক ঐক্যের ওপর জোর দেন। তবে তেলের বাজার ও বৈশ্বিক খাদ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস তুলছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিশ্বজুড়ে খাদ্যদ্রব্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।