ইরান কি পরমাণু শক্তিহীন হওয়ার পথে? জাতির উদ্দেশে ভাষণে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

ইরান কি পরমাণু শক্তিহীন হওয়ার পথে? জাতির উদ্দেশে ভাষণে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

মধ্যপ্রাচ্যে ঘনীভূত যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেই হোয়াইট হাউস থেকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রথম প্রাইম-টাইম ভাষণে ইরানের বিরুদ্ধে চরম হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার রাতে দেওয়া এই ভাষণে তিনি দাবি করেন, গত চার সপ্তাহে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রে ‘দ্রুত ও চূড়ান্ত’ জয় হাসিল করেছে। ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে শুরু করা সামরিক অভিযানে ইরান বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং মার্কিন বি-২ বোমারু বিমানগুলো দেশটির পরমাণু কেন্দ্রগুলো কার্যত ধ্বংস করে দিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ট্রাম্পের দাবি, ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ এবং বর্তমানের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-র মাধ্যমে ইরানের সামরিক পরিকাঠামোকে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্টের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের বিমান বাহিনী ও নৌবাহিনী এখন অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে এবং তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও বিধ্বস্ত। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবেই তাদের পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র হতে দেবে না। বিশ্বের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নীতির তীব্র সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, আগের সরকার ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি করে তাদের হাতে ১.৭ বিলিয়ন ডলার তুলে দিয়েছিল। সেই অর্থ তেহরানকে পরমাণু কর্মসূচি এগিয়ে নিতে সাহায্য করেছিল। ওবামা জমানার সেই চুক্তি বাতিল করাকে নিজের কৃতিত্ব হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। এছাড়া, প্রথম মেয়াদে কাসেম সোলেমানিকে হত্যার প্রসঙ্গ টেনে তিনি মনে করিয়ে দেন যে, সন্ত্রাসী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে আমেরিকা সবসময়ই কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে ট্রাম্প তেল পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালীর সুরক্ষার বিষয়টি উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, যেসব দেশ মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর নির্ভরশীল, তাদেরও এই সমুদ্রপথ রক্ষায় এগিয়ে আসা উচিত। এছাড়া ভেনেজুয়েলায় সফল সামরিক অভিযানের প্রশংসা করে তিনি জানান, সেই দেশে পরিস্থিতি এখন উন্নতির দিকে এবং জ্বালানি ক্ষেত্রে সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই জয়গুলো আন্তর্জাতিক মহলে আমেরিকার সামরিক শ্রেষ্ঠত্বকে আবারও প্রমাণ করেছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরান যদি নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন না করে, তবে আরও ভয়াবহ হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি জানান, পরবর্তী দফায় ইরানের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো একযোগে ধ্বংস করে দেওয়া হতে পারে। আমেরিকার কৌশলগত লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযান থামবে না। সবশেষে তিনি আশ্বস্ত করেন যে, এই কঠোর পদক্ষেপের ফলে আগামী প্রজন্ম এক নিরাপদ বিশ্বে বাস করতে পারবে এবং আমেরিকার মিত্র দেশগুলো সুরক্ষিত থাকবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *