ইরান মার্কিন সংঘাত রুখতে পাকিস্তানের মাস্টারস্ট্রোক, কেন নীরব রইলেন মোদী

ইরান, আমেরিকা ও ইজরায়েলের মধ্যে চলা দীর্ঘ ৩৯ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অবসান ঘটল। হরমুজ প্রণালী দিয়ে পুনরায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ার ঘোষণায় বিশ্ব অর্থনীতি ও শেয়ার বাজারে স্বস্তির হাওয়া বইছে। তবে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার ক্ষেত্রে বিশ্ব রাজনীতিতে এক অভাবনীয় মোড় লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘদিনের মিত্র ভারতের পরিবর্তে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন পাকিস্তানকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বেছে নিয়েছে। শুক্রবার ইসলামাবাদে দু’পক্ষের স্থায়ী শান্তি বৈঠকের আগে ভারতের নীরবতা ও পাকিস্তানের এই কূটনৈতিক সাফল্য নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ন্যাটোর সমর্থন না পাওয়া এবং দেশের ভেতরে ক্রমাগত চাপের মুখে পড়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্রুত যুদ্ধ থামাতে চেয়েছিলেন। এই সুযোগটিকে কাজে লাগিয়েছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির ও প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের দীর্ঘ সীমান্ত এবং ধর্মীয় নৈকট্যকে কাজে লাগিয়ে তারা দু’পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি খসড়া প্রস্তাব তৈরি করেন। এমনকি ইজরায়েল শুরুতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আপত্তি জানালেও ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে তারা নতিস্বীকার করতে বাধ্য হয়। ইসলামাবাদকে এই গুরুদায়িত্ব দিয়ে ট্রাম্প পরোক্ষভাবে নয়াদিল্লিকে একটি কূটনৈতিক বার্তা দিয়েছেন বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
অন্যদিকে, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর সঙ্গে ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে দেশের অভ্যন্তরে ও বাইরে প্রশ্ন উঠছে। বিরোধীদের দাবি, বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় ভারত তার ঐতিহ্যগত ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়েছে। যদিও ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের একাংশের দাবি, নয়াদিল্লি সাধারণত সরাসরি হস্তক্ষেপে বিশ্বাসী নয় এবং পর্দার আড়ালে কূটনীতিতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। তবে ইউক্রেন যুদ্ধে মোদীর সক্রিয় ভূমিকার কথা টেনে সমালোচকরা এই যুক্তি খারিজ করছেন। আদতে মধ্যস্থতার ঝুঁকি না নিয়ে ভারত এই সময়ে নিজের জ্বালানি নিরাপত্তা ও হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিজস্ব জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করাকেই অগ্রাধিকার দিয়েছে। পাকিস্তান যখন কূটনৈতিক ময়দানে পয়েন্ট কুড়োতে ব্যস্ত, ভারত তখন নিজের দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ রক্ষায় স্থির থেকেছে।