ইরান যুদ্ধের আবহে আমেরিকার সেনা সর্বাধিনায়ক বরখাস্ত

ইরান যুদ্ধের আবহে আমেরিকার সেনা সর্বাধিনায়ক বরখাস্ত

ইরানের সঙ্গে চলা যুদ্ধের আবহে বড়সড় রদবদল ঘটাল মার্কিন প্রশাসন। যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যেই আচমকা সেনার সর্বোচ্চ পদ তথা ‘আর্মি চিফ অফ স্টাফ’ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল জেনারেল র‌্যান্ডি জর্জকে। আমেরিকার ইতিহাসে সামরিক সংঘাত চলাকালীন কোনো সেনা সর্বাধিনায়ককে বরখাস্ত করার ঘটনা এই প্রথম, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার আমেরিকার প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ আনুষ্ঠানিকভাবে জেনারেল জর্জকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দেন। পেন্টাগনের জারি করা বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আমেরিকার ৪১তম সেনা সর্বাধিনায়ক হিসেবে র‌্যান্ডি জর্জ অবসর গ্রহণ করছেন। বিবৃতিতে তাঁর ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য শুভেচ্ছা জানানো হলেও, মেয়াদের প্রায় দেড় বছর বাকি থাকতে কেন তাঁকে সরানো হলো, তা নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় রেখেছে প্রশাসন।

সূত্রের খবর, প্রতিরক্ষা নীতি নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে র‌্যান্ডি জর্জের দীর্ঘদিনের সংঘাতই এই বহিষ্কারের মূল কারণ। ট্রাম্প এবং প্রতিরক্ষা সচিব হেগসেথ মার্কিন প্রতিরক্ষা কাঠামোকে আমূল বদলে ফেলতে চাইলেও জেনারেল জর্জ পুরনো সামরিক পন্থায় অনড় ছিলেন। এই নীতিগত দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করায় শেষ পর্যন্ত তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ট্রাম্প প্রশাসন।

ইরান যুদ্ধ নিয়েও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সেনাপ্রধানের মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল বলে জানা গেছে। ট্রাম্প যেখানে দাবি করছেন মার্কিন সেনা বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে, সেখানে যুদ্ধের কৌশল নিয়ে দ্বিমত পোষণ করেছিলেন জর্জ। বিশেষ করে ইরান ফ্রন্টে সেনার অবস্থান এবং আক্রমণের ধরণ নিয়ে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়েছিল।

এদিকে আমেরিকার অভ্যন্তরেও যুদ্ধের বিরুদ্ধে জনমত প্রবল হচ্ছে। সাধারণ নাগরিকদের একাংশ জাতীয়তাবাদের পরিবর্তে দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিতে নজর দেওয়ার দাবি তুলছেন। এই গণঅসন্তোষের মাঝে সেনা সর্বাধিনায়ককে বরখাস্ত করার ঘটনা ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

জেনারেল জর্জের স্থলাভিষিক্ত কে হবেন, তা এখনও স্পষ্ট করেনি পেন্টাগন। তবে যুদ্ধের এই সংকটময় মুহূর্তে সেনার শীর্ষ পদে এমন রদবদল ইরান অভিযানের গতিপ্রকৃতিতে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার। জেনারেলের বিদায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর অন্দরে কোনো অস্থিরতা তৈরি করে কি না, সেদিকেও নজর রাখছে বিশ্ব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *