ইরান যুদ্ধের আবহে আমেরিকার রেকর্ড দেড় ট্রিলিয়ন ডলারের, প্রতিরক্ষা বাজেট জনমুখী প্রকল্পে ব্যাপক ছাঁটাই

ইরান যুদ্ধের আবহে আমেরিকার রেকর্ড দেড় ট্রিলিয়ন ডলারের, প্রতিরক্ষা বাজেট জনমুখী প্রকল্পে ব্যাপক ছাঁটাই

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যেই ২০২৭ অর্থবর্ষের জন্য আমেরিকার ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রতিরক্ষা বাজেটের প্রস্তাব দিল হোয়াইট হাউস। শুক্রবার পেশ করা এই খসড়া বাজেটে প্রায় ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলার বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি। ট্রাম্প প্রশাসনের এই বিপুল সামরিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা মেটাতে দেশের অভ্যন্তরীণ সমাজকল্যাণমূলক ও পরিবেশ প্রকল্পে ব্যাপক কাটছাঁটের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত এই বাজেটের একটি বড় অংশ ব্যয় হবে গোলাবারুদ উৎপাদন, নৌবহরের আধুনিকীকরণ এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বপ্নের ‘গোল্ডেন ডোম’ মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজে। এছাড়া সামরিক কর্মীদের বেতন ৫ থেকে ৭ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত বরাদ্দের একটি বিশেষ অংশ সেনেটে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে পাশ করানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থনের ওপর নির্ভর করতে না হয়।

প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়লেও অ-প্রতিরক্ষা বা অভ্যন্তরীণ খাতে প্রায় ১০ শতাংশ বা ৭৩ বিলিয়ন ডলার খরচ কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে নিম্নবিত্তদের স্বাস্থ্য ও সমাজকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলোতে। প্রশাসন এই প্রকল্পগুলোকে ‘ওক’ (woke) সংস্কৃতি বলে কটাক্ষ করেছে। বিশেষ করে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য জ্বালানি সহায়তা ও কমিউনিটি সার্ভিসের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলো বন্ধ হওয়ার মুখে।

পরিবেশ রক্ষায় বরাদ্দকৃত বাজেটেও বড়সড় কোপ বসিয়েছে হোয়াইট হাউস। এনভায়রনমেন্টাল প্রোটেকশন এজেন্সির (EPA) বাজেট প্রায় অর্ধেক করার পাশাপাশি জলবায়ু গবেষণা ও বৈদ্যুতিক গাড়ির ভর্তুকি তুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, পরিবেশগত ন্যায়বিচারের নামে জাতিগত বৈষম্য প্রচার করা হচ্ছে। এমনকি ফেডারেল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি (FEMA) এবং সাইবার নিরাপত্তা খাতের বরাদ্দ কমানোরও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এই ব্যাপক কাটছাঁটের বিপরীতে মেলানিয়া ট্রাম্পের বিশেষ উদ্যোগ এবং ওয়াশিংটন ডিসির সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের জন্য বিপুল অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেলথ এবং কর পরিষেবা সংস্থা (IRS) থেকেও কয়েক বিলিয়ন ডলার কমিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। যদিও এই বাজেট প্রস্তাবকে মূলত একটি ‘ইচ্ছাপত্র’ হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মার্কিন কংগ্রেস।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *