ইরান যুদ্ধের আবহে দেশে ফিরলেন ৬ লক্ষ ভারতীয়, নিরাপদ প্রত্যাবর্তনে বড় সাফল্য মোদীর সরকারের

পশ্চিম এশিয়ায় ঘনীভূত হওয়া যুদ্ধের মেঘ এবং ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের জেরে সরাসরি প্রভাবিত হচ্ছেন লক্ষ লক্ষ ভারতীয়। এই চরম উত্তেজনার আবহে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক এক বিশাল উদ্ধার অভিযান চালিয়ে নজিরবিহীন সাফল্য দেখিয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আজ পর্যন্ত প্রায় ৫,৯৮,০০০ ভারতীয় পশ্চিম এশিয়া ও উপসাগরীয় অঞ্চলের অশান্ত পরিস্থিতি থেকে নিরাপদে নিজের দেশে ফিরে এসেছেন। বিদেশ মন্ত্রকের আধিকারিক অসীম আর মহাজন জানিয়েছেন, পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল হলেও ভারত সরকার গোটা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে এবং নাগরিকদের সুরক্ষায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলো থেকে ভারতীয়দের ফিরিয়ে আনতে আকাশপথের পাশাপাশি বিকল্প রুটগুলোকেও সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি থেকে প্রতিদিন প্রায় ৯০টি বিমান ভারতে আসছে। সৌদি আরব এবং ওমান থেকেও নিয়মিত বিমান পরিষেবা চালু রাখা হয়েছে। কাতারের আকাশপথ আংশিকভাবে খোলা থাকায় সেখান থেকেও প্রতিদিন ৮-১০টি বিমান চলাচলের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে কুয়েত এবং বাহরাইনের আকাশপথ এখনও বন্ধ থাকায় ওই অঞ্চলে আটকে পড়া নাগরিকদের জন্য বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। মূলত আটকে পড়া মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিকল্প ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
উদ্ধারকাজ সহজ করতে ভারত সরকার বিভিন্ন প্রতিবেশী দেশের সাহায্য নিচ্ছে। ইরান থেকে নাগরিকদের উদ্ধার করে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান হয়ে ভারতে আনা হচ্ছে। একইভাবে ইজরায়েলে আটকে পড়াদের মিশর ও জর্ডন হয়ে এবং ইরাক থেকে জর্ডন ও সৌদি আরবের পথ ব্যবহার করে দেশে ফেরানো হচ্ছে। বিদেশ মন্ত্রক ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে এমন একটি বিশেষ কন্ট্রোল রুম তৈরি করেছে। এছাড়াও বিভিন্ন দেশে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসগুলোকে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে এবং স্থানীয় সরকারগুলোর সঙ্গে নিরন্তর সমন্বয় বজায় রাখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ইরাক ও কুয়েতে সাম্প্রতিক ঘটনায় প্রাণ হারানো ভারতীয়দের নিথর দেহগুলোও আজ বিশেষ মর্যাদায় দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
ইজরায়েল-ইরান সংঘাত দ্বিতীয় মাসে পা দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহ, বিমান চলাচল এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তায় বড়সড় সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি বিচার করে ভারত সরকার তার নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার গতি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ফিরবে কি না তা অনিশ্চিত হলেও, ভারতীয় নাগরিকদের সুরক্ষিত রাখতে দিল্লি যে বদ্ধপরিকর, তা এই বিশাল উদ্ধার অভিযানের মধ্য দিয়ে আরও একবার প্রমাণিত হলো। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিদেশ মন্ত্রক ক্রমাগত ভারতীয় নাগরিকদের জন্য নির্দেশিকা জারি করছে এবং প্রয়োজনে আরও বিশেষ বিমান ব্যবহারের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।