ইরান যুদ্ধের আবহে মার্কিন সেনায় বিশাল রদবদল, জেনারেল র্যান্ডি জর্জের বিদায় ও নতুন সেনাপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ

ইরান যুদ্ধের আবহে মার্কিন সেনায় বিশাল রদবদল, জেনারেল র্যান্ডি জর্জের বিদায় ও নতুন সেনাপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ

ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন সামরিক বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন আনল ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সেনার সবথেকে সিনিয়র অফিসার জেনারেল র্যান্ডি জর্জকে অবিলম্বে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন। ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে সেনাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করা র্যান্ডি জর্জের মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত থাকলেও, যুদ্ধের এই সংকটকালীন মুহূর্তে তাকে সরিয়ে দেওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

পেন্টাগনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, জেনারেল জর্জ ৪১তম চিফ অফ স্টাফ পদ থেকে অবসর নিচ্ছেন এবং এই সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে। যদিও তাকে সরিয়ে দেওয়ার প্রকৃত কারণ নিয়ে প্রতিরক্ষা দপ্তর থেকে এখনও কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তবে পেন্টাগনের মুখপাত্র শান পার্নেল কয়েক দশকের দেশসেবার জন্য জেনারেল জর্জকে বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে আমেরিকা। ইরানকে মোকাবিলা করতে সেই অঞ্চলে বিপুল সংখ্যক মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধের এই মোড় ঘোরানো সময়ে ট্রাম্প প্রশাসন এমন এক নেতৃত্ব চাইছে যারা বর্তমান সরকারের রণকৌশল ও ভিশনের সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্য রেখে কাজ করতে পারবে।

র্যান্ডি জর্জের উত্তরসূরি হিসেবে জেনারেল ক্রিস্টোফার লানেভকে মার্কিন সেনার নতুন প্রধান নিযুক্ত করা হয়েছে। লানেভ বর্তমানে মার্কিন সেনার ভাইস চিফ অফ স্টাফ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। উল্লেখ্য যে, লানেভ অতীতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সামরিক সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই পিট হেগসেথ মার্কিন সামরিক ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনছেন। ইতিপূর্বে তিনি জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান সি কিউ ব্রাউন এবং নৌবাহিনী প্রধান লিসা ফ্র্যাঞ্চেটির মতো অত্যন্ত প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। লানেভের নিয়োগ সেই সংস্কার প্রক্রিয়ারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এই রদবদলের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার সামরিক কৌশল কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, যুদ্ধের ময়দানে দ্রুত ও কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার লক্ষ্যেই অনুগত ও দক্ষ নেতৃত্বকে সামনে আনা হচ্ছে। নতুন সেনাপ্রধানের হাত ধরে মার্কিন বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে তাদের পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপগুলো সাজিয়ে তুলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *