ইরান যুদ্ধের প্রভাবে এলপিজি সংকটের আশঙ্কা, পেট্রোল পাম্পেই মিলবে কেরোসিন

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রভাব এবার সরাসরি পড়তে চলেছে ভারতের রান্নাঘরে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের পরিস্থিতির কারণে এলপিজি বা রান্নার গ্যাসের আমদানিতে বাধা আসার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে কেরোসিন ব্যবহারের পথে হাঁটল কেন্দ্রীয় সরকার।
পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিয়মিত মাসিক কোটার বাইরে অতিরিক্ত ৪৮,০০০ কিলো লিটার কেরোসিন বরাদ্দ করা হয়েছে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোর জন্য। এর মধ্যে সবথেকে বড় সুবিধা হলো, এবার থেকে শুধুমাত্র রেশন দোকান নয়, রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলোর (IOC, BPCL, HPCL) নির্দিষ্ট কিছু পেট্রোল পাম্প থেকেও কেরোসিন কিনতে পারবেন সাধারণ মানুষ। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি রিটেইল আউটলেট ৫,০০০ লিটার পর্যন্ত কেরোসিন মজুত ও বিক্রি করতে পারবে।
যদিও গত এক দশকে রান্নার গ্যাসের প্রসারের ফলে কেরোসিনের ব্যবহার অনেকটাই কমেছে। উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা এবং রাজস্থানের মতো অনেক রাজ্য ইতিমধ্যেই নিজেদের ‘কেরোসিন মুক্ত’ ঘোষণা করেছে। কিন্তু বর্তমান যুদ্ধের আবহে এলপিজি সরবরাহের ওপর চাপ কমাতে এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, দেশের মোট কেরোসিন বরাদ্দের সিংহভাগ (প্রায় ৬৬ শতাংশ) পশ্চিমবঙ্গ পেয়ে থাকে। তবে বর্তমানে মানুষের কাছে কেরোসিন স্টোভের অভাব থাকায় এই বাড়তি তেলের ব্যবহার কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।