ইরান যুদ্ধের প্রভাবে টালমাটাল শেয়ার বাজার, ৩৫ দিনে বিনিয়োগকারীদের ৪১ লক্ষ কোটি টাকা উধাও

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে টালমাটাল শেয়ার বাজার, ৩৫ দিনে বিনিয়োগকারীদের ৪১ লক্ষ কোটি টাকা উধাও

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের অভিঘাতে ভারতীয় শেয়ার বাজারে রক্তক্ষরণ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই দালাল স্ট্রিটে পতনের ধারা শুরু হয়। যদিও মাঝেমধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের জেরে বাজার সাময়িক ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছিল, তবুও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের পুঁজি প্রত্যাহারের প্রবণতা থামেনি। আজকের লেনদেন শেষে সেনসেক্স সামান্য ০.২৫ শতাংশ বেড়ে ৭৩,৩১৯ পয়েন্টে থিতু হলেও দিনের শুরুতে সূচকটি ২.২৬ শতাংশ পর্যন্ত পড়ে গিয়েছিল।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ৩৫ দিনে সেনসেক্স ও নিফটি ফিফটি-র মতো প্রধান সূচকগুলো প্রায় ১০ শতাংশ ধসে পড়েছে। এমনকি কিছু নির্দিষ্ট সংস্থার শেয়ারের দাম ৪০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। করোনা মহামারির পর ভারতীয় শেয়ার বাজারের জন্য এটিই সবচেয়ে বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি বিএসই তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলোর মোট বাজার মূলধন ছিল ৪৬৩.৫ লক্ষ কোটি টাকা, যা ২ এপ্রিল নাগাদ ৪২২.৪ লক্ষ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। অর্থাৎ এই কয়েক দিনেই বিনিয়োগকারীরা প্রায় ৪১ লক্ষ কোটি টাকার সম্পদ হারিয়েছেন।

বাজারের এই অনিশ্চয়তার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উঠে আসছে বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের (FII) ব্যাপক হারে শেয়ার বিক্রি। গত এক মাসে তারা নগদ বিভাগে প্রায় ১.৩০ লক্ষ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করে বাজার থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া অপরিশোধিত তেলের ক্রমবর্ধমান দাম এবং মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কে রয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক বার্তা অনুযায়ী, আগামী ২-৩ সপ্তাহ যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে, যা স্বল্প মেয়াদে বাজারকে আরও অস্থির করে তুলবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বাজার বিশেষজ্ঞরা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিচ্ছেন। তাদের মতে, আতঙ্কে শেয়ার বিক্রি না করে দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য নিয়ে এগোলে বর্তমান পতনকে ভালো মানের শেয়ার কেনার সুযোগ হিসেবে কাজে লাগানো যেতে পারে। তবে বাজারের ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি অনেকটাই নির্ভর করছে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার আলোচনা এবং বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির স্বচ্ছতার ওপর। আপাতত স্থিতিশীলতার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন ক্ষুদ্র ও বৃহৎ সব স্তরের বিনিয়োগকারীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *