ইরান যুদ্ধের প্রভাব: দেশজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট ও জনজীবনে দুর্ভোগ

ইরান যুদ্ধের প্রভাব: দেশজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট ও জনজীবনে দুর্ভোগ

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বাংলাদেশে জ্বালানি সংকট তীব্রতর হয়ে উঠেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে কৃষি, পরিবহন ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের পেট্রোল পাম্পগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে রাইড শেয়ারিং চালকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও পর্যাপ্ত তেল পাচ্ছেন না। গ্রামীণ এলাকায় সেচ পাম্পের জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেল না মেলায় বোরো ধান, আম ও পাট চাষিরা চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন। অনেক এলাকায় বাড়তি দাম দিয়েও মিলছে না চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি।

গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে কৃষি অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। সেচ ব্যবস্থার ব্যাঘাত ঘটলে ফসলের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পণ্যবাহী ট্রাক ও নৌযানগুলো নিয়মিত ডিজেল না পাওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে অফিসের সময়সীমা কমানো, আলোকসজ্জা নিষিদ্ধ করা এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ব্যয় ৩০ শতাংশ হ্রাসের মতো কঠোর রেশনিং ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

তবে সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, এপ্রিলে বড় কোনো সংকটের সম্ভাবনা নেই। চট্টগ্রাম বন্দরে নতুন করে ৬১ হাজার টন ডিজেল এসে পৌঁছেছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প উৎস হিসেবে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানির চেষ্টা চলছে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, সেচ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে বিদ্যুৎচালিত পাম্পের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে দাবি করা হয়েছে যে, বর্তমানে বিদ্যুতের বড় কোনো ঘাটতি নেই এবং দ্রুতই সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *