ইরান যুদ্ধের ব্যয়ভার কি তবে আরব দেশগুলোর কাঁধে? রণকৌশল বদলাচ্ছেন ট্রাম্প

ইরান যুদ্ধের ব্যয়ভার কি তবে আরব দেশগুলোর কাঁধে? রণকৌশল বদলাচ্ছেন ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে আর্থিক সংকটে পড়া আমেরিকা এবার রণকৌশল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধের বিপুল খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে ওয়াশিংটন। এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধের ব্যয়ভার মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোর থেকে সংগ্রহের পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই বিষয়ে আরব দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী। এমনকি হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকলেও মার্কিন বাহিনী যুদ্ধ থেকে সরে দাঁড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক চাপের মুখে থাকা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মঙ্গলবার সাফ জানিয়েছেন, অন্য দেশগুলো হয় আমেরিকা থেকে তেল কিনুক, নয়তো নিজস্ব উপায়ে জ্বালানির ব্যবস্থা করুক। তিনি সামাজিক মাধ্যমে ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তেহরান যদি চুক্তিতে না আসে এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখে, তবে তাদের তেল পরিকাঠামোয় আরও ভয়াবহ আক্রমণ চালানো হবে। মূলত ইরানের নৌ ও ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি ধ্বংস করাই আমেরিকার মূল লক্ষ্য। এই লক্ষ্য পূরণের পর কূটনৈতিক চাপের মাধ্যমে সংঘাত প্রশমনের পথে হাঁটতে চায় ওয়াশিংটন।

এদিকে, আমেরিকার বিরুদ্ধে অসামরিক এলাকায় হামলার অভিযোগ তুলে দেশটিকে যুদ্ধাপরাধী ঘোষণার দাবি জোরালো হচ্ছে। তবে হোয়াইট হাউস এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনী সর্বদা আইন মেনে কাজ করে। প্রেস সেক্রেটারি লেভিটের দাবি অনুযায়ী, পেন্টাগন আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এই যুদ্ধ শেষ করতে চায় এবং প্রেসিডেন্ট ১০ দিনের মধ্যে ইরানের সঙ্গে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার দায় ট্রাম্প প্রশাসনের ওপরই চাপাচ্ছে আন্তর্জাতিক মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *