ইরান যুদ্ধে দুই মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংস, ট্রাম্পের প্রথম প্রতিক্রিয়ায় তোলপাড় বিশ্ব

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও আমেরিকার সংঘাত এক মাস পেরিয়ে এক চরম উত্তেজনাকর পর্যায়ে পৌঁছেছে। শুক্রবার ইরানের আকাশসীমায় এবং হরমুজ প্রণালীর কাছে আমেরিকার দুটি শক্তিশালী যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়ার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ইরানি সেনাবাহিনীর দাবি, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমেই বিমান দুটিকে গুলি করে নামানো হয়েছে। এই বড়সড় ক্ষয়ক্ষতির পর শুক্রবার রাতে প্রথমবার জনসমক্ষে মুখ খুললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই ঘটনাকে যুদ্ধের অনিবার্য অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার খবর নিশ্চিত করে তিনি বলেন, “এটা যুদ্ধ এবং আমরা বর্তমানে যুদ্ধের মধ্যেই আছি।” তবে এই দুর্ঘটনার ফলে ইরানের সঙ্গে চলমান কোনো কূটনৈতিক আলোচনা বা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব পড়বে না বলে তিনি দাবি করেন। ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে নানা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে।
বিধ্বস্ত হওয়া বিমান দুটির মধ্যে একটি ছিল ‘F-15E স্ট্রাইক ঈগল’, যা ইরানের আকাশসীমায় ভেঙে পড়ে। ইরানি বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, বিমানটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল। ওই বিমানে একজন পাইলট ও একজন ওয়েপন সিস্টেম অফিসার ছিলেন। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, একজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অন্যজন এখনও নিখোঁজ। দ্বিতীয় বিমানটি ছিল ‘A-10 থান্ডারবোল্ট II’, যা হরমুজ প্রণালীর কাছে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমান ও পাইলটদের উদ্ধারকাজ নিয়ে ট্রাম্প সংবাদমাধ্যমের কাছে বিস্তারিত কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি। তবে তিনি পরিস্থিতির সংবেদনশীলতা ও জটিলতা স্বীকার করে নিয়েছেন। একইসঙ্গে এই সংকটকালীন সময়ে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে তিনি কিছুটা অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বর্তমানে মার্কিন বাহিনী নিখোঁজ পাইলটদের উদ্ধারে চিরুনি তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আলোচনার সম্ভাবনা জিইয়ে রাখার কথা বললেও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দাবি ভিন্ন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সংঘাত কমানোর যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছিল, তা এই ঘটনার পর বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে। পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের মধ্যস্থতা সত্ত্বেও ইরান বর্তমানে কোনো আলোচনায় বসতে রাজি নয় বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
এই মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থিতিশীল। একদিকে দুই মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংস এবং অন্যদিকে কূটনৈতিক অচলাবস্থা—সব মিলিয়ে ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে বিশ্ব। ট্রাম্পের “যুদ্ধের মধ্যে আছি” মন্তব্যটি ভবিষ্যতে সামরিক তৎপরতা আরও বৃদ্ধির সংকেত কি না, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন চলছে।