ইরান যুদ্ধ ৩৭তম দিন বুশেহর পরমাণু কেন্দ্রে চতুর্থবার হামলা, ৫ মার্কিন বিমান ধ্বংসের দাবি

আমেরিকা-ইসরায়েল বনাম ইরান সংঘাত ৩৭তম দিনে পৌঁছে আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ইরানি রিভল্যুশনারি গার্ড (IRGC) দাবি করেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় তারা দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত এবং তিনটি সামরিক হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এর মধ্যে একটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল এবং একটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট-২ রয়েছে বলে তেহরানের দাবি। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন এখনও এই খবরের আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ না করলেও নিখোঁজ এক পাইলটের সন্ধানে তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে।
এদিকে ইরানের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বুশেহর পরমাণু কেন্দ্রে শনিবার চতুর্থবারের মতো হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলায় একজন নিরাপত্তাকর্মীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে রাষ্ট্রপুঞ্জের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থা (IAEA) জানিয়েছে, কেন্দ্রটিতে হামলার পরেও তেজস্ক্রিয়তা ছড়ানোর কোনও প্রমাণ মেলেনি। পরমাণু কেন্দ্রের পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের মহশহর পেট্রোকেমিক্যাল জোনেও বড়সড় হামলা চালানো হয়েছে।
যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য অঞ্চলেও অস্থিরতা ছড়িয়েছে। ইরানের পালটা হামলায় তেল আবিব থেকে দুবাই পর্যন্ত সাইরেন বেজে ওঠে। দুবাইয়ের ইন্টারনেট সিটিতে মার্কিন টেক জায়ান্ট ওরেকল-এর দপ্তরেও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। রিভল্যুশনারি গার্ড আগেই ১৮টি মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল। এছাড়া হরমুজ প্রণালীতে একটি ইজরায়েলি তেল ট্যাঙ্কারে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের এই প্রতিরোধ সত্ত্বেও সাফ জানিয়েছেন, তেহরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রায় নিষ্ক্রিয়। তবে ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে তিনি ইরানকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার চরম সময়সীমা বা আলটিমেটাম দিয়েছেন। ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চুক্তি না করলে বা হরমুজ প্রণালী খুলে না দিলে ইরানের ওপর চরম আঘাত হানা হবে। পাশাপাশি ন্যাটোকে ‘দুর্বল সহযোগী’ হিসেবে উল্লেখ করে সম্পর্কের পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
ইরাকেও মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে অন্তত ১৯টি হামলা চালিয়েছে ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো। বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস সে দেশের নাগরিকদের আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বড় ধরনের হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছে। সব মিলিয়ে বুশেহর পরমাণু কেন্দ্র এবং মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংসের এই পালটাপালটি দাবি মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।