ইরান সংঘাতে মার্কিন রণকৌশল, মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের ভাবনা

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের আবহে সামরিক শক্তি আরও বৃদ্ধির পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রশাসন সূত্রে খবর, পারস্য উপসাগর ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে তেলবাহী জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিতে হাজার হাজার অতিরিক্ত সেনা এবং অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান মোতায়েনের বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে। বিশেষ করে ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং দেশটির পারমাণবিক সক্ষমতা খর্ব করাই এখন ট্রাম্প প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।
সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের স্থলভাগে সেনা অভিযান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হলেও কৌশলগত কারণে সব বিকল্পই খোলা রেখেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-র অধীনে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার ও নৌবাহিনীকে দুর্বল করার প্রচেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যেই ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে সাত হাজারেরও বেশি হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী, যার ফলে ১২০টিরও বেশি ইরানি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। নতুন করে আরও মেরিন সেনা পাঠানোর আলোচনা চললেও, মার্কিন জনমতের চাপ এবং রাজনৈতিক ঝুঁকি বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে সতর্ক হোয়াইট হাউস। একদিকে ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড রণতরী রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সরে যাওয়ায় নৌ-প্রতিরক্ষায় কিছুটা ঘাটতি দেখা দিয়েছে, অন্যদিকে মিত্র দেশগুলোর সহায়তা ছাড়া হরমুজ প্রণালীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।