ইরান হামলার আগাম খবর কি জানতেন মোদী, সংসদে বড় তথ্য দিল কেন্দ্র

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাম্প্রতিক ইজরায়েল সফর এবং তার ঠিক পরেই ইরানের ওপর হামলা নিয়ে ওঠা যাবতীয় জল্পনার অবসান ঘটাল ভারত সরকার। বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় ইরানের ওপর সামরিক অভিযানের বিষয়ে কোনও আলোচনা হয়নি। ফেব্রুয়ারি মাসের শেষে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে যে কৌতূহল তৈরি হয়েছিল, তার প্রেক্ষিতেই এই সরকারি স্পষ্টীকরণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
গত ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ইজরায়েল সফরে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তার ঠিক পরদিন অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান লক্ষ্য করে বড়সড় হামলা চালায় ইজরায়েল ও আমেরিকা। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই সংসদে প্রশ্ন তোলা হয় যে, ভারত কি এই হামলার বিষয়ে আগে থেকে অবহিত ছিল? কেরলের আইইউএমএল সাংসদ আব্দুল ওয়াহাব বিদেশ মন্ত্রকের কাছে জানতে চান, প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় এই ধরনের কোনও সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়েছিল কি না। জবাবে বিদেশ রাষ্ট্র মন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং সাফ জানান, দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয় নিয়ে কথা হলেও ইরান হামলা সংক্রান্ত কোনও প্রসঙ্গ সেখানে উত্থাপিত হয়নি।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর এই বিশেষ সফরে দুই দেশের মধ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মউ (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), সাইবার নিরাপত্তা, কৃষি, মৎস্যচাষ, শিক্ষা এবং ডিজিটাল পেমেন্টের মতো ক্ষেত্রে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে ভারত ও ইজরায়েল। বিদেশ রাষ্ট্র মন্ত্রী জানিয়েছেন, দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বকে আরও মজবুত করাই ছিল এই সফরের মূল লক্ষ্য। সেখানে যুদ্ধ বা কোনও নির্দিষ্ট দেশে হামলার পরিকল্পনা নিয়ে কোনও বার্তালাপের অবকাশ ছিল না।
অন্যদিকে, ইজরায়েলের পক্ষ থেকেও এই বিষয়ে একই সুর শোনা গিয়েছে। ইজরায়েলি বিদেশ মন্ত্রী গিডন সার জানিয়েছেন, ভারত অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু হওয়া সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী মোদীকে এই হামলার বিষয়ে কিছু জানানো সম্ভব ছিল না। কারণ, হামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছিল অনেক পরে। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরই শনিবার ভোরে এই সামরিক অভিযানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফলে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় এই তথ্য বিনিময় করার প্রশ্নই ওঠে না।
বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। প্রায় এক মাস ধরে চলা এই সংঘাতে দুই পক্ষই ড্রোন ও মিসাইল হামলায় লিপ্ত। এই অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেই ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ইজরায়েল সফর এবং পরবর্তী ঘটনাক্রম নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা বিশ্লেষণ চলছিল। তবে ভারত ও ইজরায়েল— দুই দেশের সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া এই বিবৃতির পর এটি পরিষ্কার যে, ইরানের ওপর হামলার বিষয়ে ভারতের আগাম কোনও সম্পৃক্ততা বা তথ্য ছিল না। ভারত তার নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেই দ্বিপাক্ষিক উন্নয়নের পথে হাঁটছে।