ইসলামাবাদের ৫ কিলোমিটারের মধ্যে আফগান এয়ার স্ট্রাইক! ধূলিসাৎ পাক সেনা ক্যাম্প, ১২ জওয়ানের মৃত্যু

নিউজ ডেস্ক: সীমান্ত সংঘাত ছাপিয়ে এবার পুরোদস্তুর যুদ্ধের রণদামামা পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে। ইসলামাবাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে বিমান হামলা চালাল আফগান বাহিনী। খোদ পাক প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সেনা ক্যাম্পে আছড়ে পড়ল আফগানিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্র। এই বিধ্বংসী হামলায় ১২ জন পাকিস্তানি সেনার মৃত্যু হয়েছে বলে স্বীকার করে নিয়েছে ইসলামাবাদ। পাল্টা হিসেবে কয়েকশ তালিবান যোদ্ধাকে খতম করার দাবি করেছে পাকিস্তানও।
আফগান সেনাপ্রধান ফাসিহউদ্দিন ফিতরাত সাফ জানিয়েছেন, পাকিস্তান যদি আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করার চেষ্টা করে, তবে তার ফল হবে মারাত্মক। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “পাকিস্তান একটা আঙুল তুললে আমরা মুঠো দিয়ে তার জবাব দেব। ইসলামাবাদ বা পাকিস্তানের কোনো প্রধান কেন্দ্রই আর নিরাপদ থাকবে না।”
শুক্রবার আফগান বায়ুসেনা শুধুমাত্র ইসলামাবাদ নয়, বরং খাইবার পাখতুনখোয়ার নওশেরা, জামরুদ এবং অ্যাবোটাবাদেও ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে। পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ দফতর (আইএসপিআর) এই হামলার জন্য তালিবান সরকারকে সরাসরি দায়ী করে একে ‘সন্ত্রাসবাদী কাজ’ বলে অভিহিত করেছে। পাক সেনার দাবি, এই লড়াইয়ে তারা আফগানিস্তানের ৭৩টি পোস্ট ধ্বংস করেছে এবং বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম নষ্ট করেছে।
অন্যদিকে, আফগানিস্তান দাবি করেছে যে এই লড়াইয়ে অন্তত ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে। কাবুলের দাবি, পাকিস্তান আগে হামলা চালিয়েছিল এবং এটি ছিল তার যোগ্য জবাব। আফগান নাগরিকদের মধ্যে পাকিস্তান বিরোধী ক্ষোভ তুঙ্গে। অনেক সাধারণ নাগরিক পাকিস্তানের এই আগ্রাসনকে গাজায় ইজরায়েলি হামলার সঙ্গে তুলনা করে একে ‘ইসলাম ও মানবতার শত্রু’ বলে দেগে দিয়েছেন। দুই দেশের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত এখন দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে বড়সড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।