ইসলামাবাদে ২১ ঘণ্টা উপবাসে জেডি ভ্যান্স! নেটিজেনদের টিপ্পনী— “অন্ধ্রপ্রদেশের শ্বশুরবাড়ি থেকে খাবার আনিয়ে নিতেন!”

ইসলামাবাদে ২১ ঘণ্টা উপবাসে জেডি ভ্যান্স! নেটিজেনদের টিপ্পনী— “অন্ধ্রপ্রদেশের শ্বশুরবাড়ি থেকে খাবার আনিয়ে নিতেন!”

আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সাম্প্রতিক পাকিস্তান সফর এখন আন্তর্জাতিক মহলে টক অফ দ্য টাউন। ইরানের প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনার লক্ষ্যে ইসলামাবাদে পা রেখেছিলেন তিনি। তবে আলোচনার বিষয়বস্তুর চেয়েও বেশি চর্চা হচ্ছে সেখানে কাটানো তার ২১ ঘণ্টা সময় নিয়ে। জানা গেছে, এই দীর্ঘ সময়ে তিনি এক ফোঁটা জল বা কোনো খাবার স্পর্শ করেননি।

নিরাপত্তার কড়া চাদরে উপবাস কূটনীতি

জেডি ভ্যান্সের এই আচরণের পেছনে মূলত কাজ করেছে চরম নিরাপত্তা উদ্বেগ। গোয়েন্দা রিপোর্ট এবং নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি পাকিস্তানের আতিথেয়তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন। বিমানবন্দর থেকে নেমে সরাসরি আলোচনার টেবিলে বসা থেকে শুরু করে ওয়াশিংটনের পথে রওনা হওয়া পর্যন্ত তিনি কঠোর নিয়ম মেনে চলেন। দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠকে ইরানের প্রতিনিধিদের সাথে কথা বললেও নিজের খাদ্যতালিকায় কোনো কিছুই রাখেননি তিনি।

নেটিজেনদের হাসির খোরাক ও অন্ধ্র যোগসূত্র

ভ্যান্সের এই উপবাসের খবর ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয়েছে হাস্যরস। বিশেষ করে ভারতীয়রা তার এই পরিস্থিতির সাথে পারিবারিক যোগসূত্র টেনে মজা করছেন। উল্লেখ্য, জেডি ভ্যান্সের স্ত্রী ঊষা ভ্যান্স ভারতীয় বংশোদ্ভূত এবং তার পূর্বপুরুষরা অন্ধ্রপ্রদেশের কৃষ্ণা জেলার ভাদলুরু গ্রামের বাসিন্দা।

এক নেটিজেন মন্তব্য করেছেন, “যদি ওখানের খাবার নিয়ে এতই ভয় ছিল, তবে অন্তত অন্ধ্রপ্রদেশের শ্বশুরবাড়ি থেকে খাবার আনিয়ে নিতে পারতেন!” নেটিজেনদের এমন হাজারো মন্তব্য এখন ভাইরাল।

আস্থার সংকট ও কূটনৈতিক বিশ্লেষণ

বিশ্লেষকদের মতে, একজন উচ্চপদস্থ মার্কিন কর্মকর্তার এভাবে পানাহার থেকে বিরত থাকা দুই দেশের মধ্যে আস্থার চরম সংকটেরই প্রতিফলন। আতিথেয়তা গ্রহণ না করার অর্থ হলো স্বাগতিক দেশের ওপর নূন্যতম বিশ্বাসটুকুও নেই। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার বৈরিতার গভীরতা কতটা ভয়াবহ হতে পারে, এই ঘটনা তার একটি স্পষ্ট উদাহরণ।

একঝলকে

  • আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইসলামাবাদে টানা ২১ ঘণ্টা উপবাস পালন করেছেন।
  • নিরাপত্তা শঙ্কায় তিনি পাকিস্তানি আতিথেয়তা ও খাবার গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান।
  • ইরানের প্রতিনিধিদের সাথে ম্যারাথন বৈঠক শেষে সরাসরি ওয়াশিংটনে ফিরে যান।
  • তার স্ত্রী ভারতীয় বংশোদ্ভূত হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘শ্বশুরবাড়ির খাবার’ নিয়ে নেটিজেনরা মজাদার মন্তব্য করছেন।
  • ঘটনাটি আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার তীব্র কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা দূরত্বের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *