ই-পাসপোর্টের হাত ধরে সহজ হচ্ছে বিশ্বভ্রমণ, ডিজিটাল বিপ্লবে ভারতের নয়া দিগন্ত

বিদেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে ইমিগ্রেশনের দীর্ঘ লাইন এবং নথিপত্র পরীক্ষার ঝক্কি কমাতে ভারতে চালু হয়েছে অত্যাধুনিক ‘ই-পাসপোর্ট’। পাসপোর্ট সেবা প্রকল্পের দ্বিতীয় সংস্করণের (PSP 2.0) অধীনে এই পরিষেবা বিশ্বভ্রমণের সংজ্ঞাই বদলে দিচ্ছে। প্রচলিত নীল পাসপোর্টের আদলে তৈরি হলেও এর মলাটের নিচে রয়েছে একটি মাইক্রোচিপ এবং রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন (RFID) প্রযুক্তি। এই চিপে আবেদনকারীর আঙুলের ছাপ ও চোখের মণির মতো গুরুত্বপূর্ণ বায়োমেট্রিক তথ্য সুরক্ষিত থাকবে, যা জালিয়াতি রোধে অত্যন্ত কার্যকর।
নতুন এই পাসপোর্টের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে দ্রুত ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করা। যাত্রীরা এখন স্বয়ংক্রিয় ‘ই-গেট’ ব্যবহার করে কোনো রকম বিড়ম্বনা ছাড়াই যাতায়াত করতে পারবেন। বর্তমানে দেশের প্রধান শহরগুলোর নির্দিষ্ট কেন্দ্র থেকে এই পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে। আবেদন প্রক্রিয়া আগের মতোই সহজ; পাসপোর্ট সেবা পোর্টালে নিবন্ধন ও ফি জমা দেওয়ার পর বায়োমেট্রিক সম্পন্ন হলে পুলিশি ছাড়পত্র সাপেক্ষে ডাকযোগে বাড়িতে পৌঁছে যাবে এই আধুনিক পাসপোর্ট।
নিরাপত্তার খাতিরে এই চিপ প্রযুক্তি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য এবং ১২০টিরও বেশি দেশের মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। যাদের পুরনো পাসপোর্টের মেয়াদ এখনও শেষ হয়নি, তাদের এখনই এটি পরিবর্তন করার প্রয়োজন নেই। তবে নতুন আবেদন বা নবীকরণের ক্ষেত্রে নাগরিকরা এই বিশ্বমানের সুবিধা পাবেন। ভারতের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক যাতায়াতকে আরও সহজ ও সুরক্ষিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।