উটের দুধের গুণাগুণে অবাক বিশ্ব বিশেষজ্ঞরা, ২০টি মরণব্যাধি সারাতে মহৌষধ এই পানীয়

সাধারণ দুধের তুলনায় উটের দুধ পুষ্টিগুণে বহুগুণ শক্তিশালী যা একাধিক জটিল রোগ নিরাময়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। বিকানেরের জাতীয় উষ্ট্র গবেষণা কেন্দ্রের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য উটের দুধ অমৃতের সমান। পাঞ্জাবের ফরিদকোটে একটি দীর্ঘমেয়াদী গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, নিয়মিত উটের দুধ পান করলে শিশুদের মানসিক বিকাশ ও বুদ্ধিবৃত্তি সাধারণের তুলনায় দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে উটের দুধে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, আয়রন এবং ভিটামিন সি রয়েছে যা হাড় মজবুত করার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এতে থাকা ল্যাকটোফেরিন নামক উপাদান ক্যানসারের মতো ঘাতক ব্যাধির বিরুদ্ধে লড়াই করতে শরীরকে প্রস্তুত করে। এছাড়া এক লিটার উটের দুধে প্রায় ৫২ ইউনিট ইনসুলিন থাকে, যা ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে ম্যাজিকের মতো কাজ করে। লিভার পরিষ্কার রাখা এবং রক্ত থেকে টক্সিন দূর করতেও এটি অত্যন্ত কার্যকর।
স্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি সৌন্দর্যের ক্ষেত্রেও উটের দুধের জুড়ি মেলা ভার। এতে উপস্থিত আলফা হাইড্রোক্সিল অ্যাসিড ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে এবং কুঁচকানো ভাব দূর করতে সাহায্য করে। অ্যাজমা, অটিজম, রক্তচাপ এবং এমনকি যক্ষ্মার মতো রোগ প্রতিরোধেও এই দুধ ওষুধের মতো কাজ করে। বর্তমানে জাতীয় উষ্ট্র গবেষণা কেন্দ্র কৃষকদের উটের দুধ উৎপাদনে উৎসাহিত করছে এবং এই দুধ থেকে তৈরি বিভিন্ন প্রসাধনী ও খাদ্যপণ্য বাজারে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।