উতপ্ত পাক-আফগান সীমান্তে শান্তির খোঁজে মধ্যস্থতায় চীন উরুমকিতে শুরু ত্রিপক্ষীয় বৈঠক

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা প্রশমিত করতে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করেছে চীন। বুধবার চীনের উরুমকি শহরে দুই প্রতিবেশী দেশ এবং আয়োজক চীনের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ত্রিপক্ষীয় বৈঠক শুরু হয়েছে। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে কথিত জঙ্গি আস্তানা লক্ষ্য করে ‘অপারেশন গাজাব-আল-হক’ শুরু করার পর এটিই দুই দেশের মধ্যে প্রথম উচ্চ পর্যায়ের সরাসরি আলোচনা। পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইশাক ডারের বেইজিং সফরের পর চীনের বিশেষ অনুরোধে এই বৈঠকে দুই দেশের সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারাও অংশ নিয়েছেন।
বৈঠকটি মূলত কোনো আনুষ্ঠানিক মধ্যস্থতা নয়, বরং সাম্প্রতিক উত্তেজনা নিয়ে নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি বিনিময়ের একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখা হচ্ছে। কূটনৈতিক সূত্র মতে, চীন এই আলোচনায় বাণিজ্যিক পথ পুনরায় উন্মুক্ত করার মতো বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর জোর দিচ্ছে। তবে বেইজিংয়ের নিজস্ব উদ্বেগের জায়গা হলো আফগানিস্তানে সক্রিয় আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ‘ইস্ট তুর্কিস্তান ইসলামিক মুভমেন্ট’ (ETIM)। পাকিস্তান এবং চীন উভয়েই আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে পরিচালিত সন্ত্রাসবাদ নিয়ে উদ্বিগ্ন, যা এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
আফগান প্রতিনিধিদল এবার টিটিপি এবং ইটিআইএম-এর মতো জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর বিষয়ে পাকিস্তান ও চীনের দাবি পূরণে একটি যাচাইযোগ্য মেকানিজম বা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করতে সম্মত হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে ইসলামাবাদ অভিযোগ করে আসছে যে, ২০২১ সালে তালিবান ক্ষমতায় আসার পর থেকে নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) আফগান মাটি ব্যবহার করে পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। যদিও তালিবান প্রশাসন ইতিপূর্বে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে, তবে উরুমকির এই বৈঠকে তারা নিজেদের প্রতিশ্রুতি পালনে কতটা আন্তরিক, তা যাচাই করাই বেইজিং ও ইসলামাবাদের মূল লক্ষ্য।
চলমান এই সংকট নিরসনে এর আগে সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কের মতো দেশগুলোও যুদ্ধবিরতির অনুরোধ জানিয়েছিল। গত ১৮ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পাকিস্তান তাদের সামরিক অভিযানে সাময়িক বিরতি দিলেও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযান চলবে। সেনাপ্রধান আসিম মুনির সাফ জানিয়েছেন, তালিবান শাসন যদি সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়া বন্ধ না করে, তবে সীমান্তে স্থায়ী শান্তি অধরাই থেকে যাবে। এই জটিল সমীকরণে উরুমকির বৈঠক কতটুকু সুফল আনে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতি।