উত্তর পূর্ব সীমান্ত রেলে ২০ জোড়া নতুন ট্রেন চালু বন্দে ভারত স্লিপার ও অমৃত ভারতের ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে পরিষেবা

রেল যাত্রীদের জন্য খুশির খবর নিয়ে এল উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে উত্তর পূর্বাঞ্চলজুড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণে একগুচ্ছ বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সম্প্রসারণ কাজের অংশ হিসেবে রেল কর্তৃপক্ষ ২০ জোড়া নতুন ট্রেন পরিষেবা চালুর ঘোষণা করেছে। এই তালিকায় প্রিমিয়াম, সেমি প্রিমিয়াম এবং সাধারণ তিন ধরনের ট্রেনই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর ফলে উত্তর পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোর মধ্যে যাতায়াত আরও দ্রুত ও সুবিধাজনক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রেল সূত্রের খবর, যাত্রী পরিষেবা উন্নত করতে ৩৫টি ট্রেনের গতিবেগ বৃদ্ধি করা হয়েছে, যার ফলে ট্রেন প্রতি গড়ে ১৯ মিনিট সময় সাশ্রয় হবে। পরিকাঠামোগত উন্নয়নের অংশ হিসেবে ১০০ শতাংশ বৈদ্যুতিকীকরণের লক্ষ্যমাত্রাও পূরণ করেছে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে হাওড়া ও গুয়াহাটির মধ্যে ভারতের প্রথম ‘বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেস’ চালুর পাশাপাশি নতুন ‘অমৃত ভারত’ এবং এলএইচবি কোচ সম্পন্ন ট্রেনের প্রবর্তন এই অঞ্চলের রেল পরিষেবায় এক নতুন যুগের সূচনা করেছে।
যোগাযোগ ব্যবস্থার পাশাপাশি আঞ্চলিক বাণিজ্যেও গতি আনতে সফল হয়েছে রেলওয়ে। নাগাল্যান্ডে পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল এবং সাইরাঙে প্রথম অটোমোবাইল রেক চালুর মতো ঘটনাগুলো অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা পালন করছে। এছাড়া ‘অমৃত ভারত স্টেশন স্কিম’-এর অধীনে আসামের হয়বরগাঁও এবং পশ্চিমবঙ্গের কামাখ্যাগুড়ি সহ একাধিক স্টেশনকে আধুনিক ও যাত্রী-বান্ধব করে গড়ে তোলা হয়েছে। মুর্কংসেলেক-সিলে সেকশনের উদ্বোধন অরুণাচল প্রদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাকেও আরও শক্তিশালী করেছে।
উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জল কিশোর শর্মা জানিয়েছেন, পরিচালনাগত সাফল্যের পাশাপাশি রেলওয়ে হাসপাতাল এবং বিদ্যালয়গুলোর মানোন্নয়নেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও আরামদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করাই এখন রেলের প্রধান লক্ষ্য। অন্তর্ভুক্তিমূলক এই উন্নয়নের সুফল রেলকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ যাত্রী সকলেই পাবেন।