উত্তর সিকিমে ধস ও তুষারপাতে আটকা ৮০০ পর্যটক, উদ্ধারে নামছে সেনাবাহিনী

উত্তর সিকিমে ধস এবং ভারী তুষারপাতের জেরে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গন জেলার লাচেন ও চুংথাং সংযোগকারী রাস্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ধসে ভেঙে যাওয়ায় রবিবারের পর সোমবারও আটকে রয়েছেন প্রায় ৮০০-র বেশি পর্যটক। বিশেষ করে লাচেন–চুংথাং রোডের তারুম চু ব্রিজের কাছে বড়সড় ভাঙন দেখা দেওয়ায় ওই এলাকাটি বর্তমানে মূল ভূখণ্ড থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন আপাতত তাঁদের লাচেনেই থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
সিকিম প্রশাসন সূত্রে খবর, আটকে পড়া পর্যটকদের উদ্ধারে সোমবার সকাল থেকেই তৎপরতা শুরু হয়েছে। তবে উদ্ধারকাজ সফল হওয়া সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে আবহাওয়ার ওপর। আবহাওয়া দপ্তর পূর্বাভাস দিয়েছে যে আগামী কয়েক ঘণ্টায় তুষারপাতের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। পরিস্থিতি কিছুটা অনুকূল হলে পর্যটকদের লাচেন-ডঙ্খা লা এবং লাচুং-গ্যাংটক রুট দিয়ে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তুষারের পুরু আস্তরণ সরিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করার কাজ চলছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায়।
পর্যটকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে সিকিম পুলিশ, আইটিবিপি (ITBP), বর্ডার রোডস অর্গানাইজেশন (BRO) এবং ভারতীয় সেনাবাহিনী যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আবহাওয়া এবং রাস্তার পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু হবে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বারবার কাজে বিঘ্ন ঘটছে। বিশেষ করে তারুম চু এলাকার নবনির্মিত সেতুটি ধসে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় যাতায়াত ব্যবস্থা বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসেই এই সেতুটির উদ্বোধন করা হয়েছিল। কিন্তু মাস ঘুরতে না ঘুরতেই ধসের কবলে পড়ে সেতুর একাংশ ভেঙে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। গত ২৫ মার্চ থেকেও উত্তর সিকিমের চুংথাং এলাকায় প্রবল বৃষ্টি ও ধসের কারণে পর্যটকরা সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলেন। এবার তুষারপাতের প্রাবল্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
দক্ষিণবঙ্গে যখন গরমের দাপট বাড়ছে, তখন পাহাড়ে বেড়াতে গিয়ে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে পড়লেন বহু পর্যটক। গরমের ছুটি শুরু হওয়ার আগেই সিকিমের এই পরিস্থিতি পর্যটন ব্যবসায়ীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। আপাতত প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হলো আটকে পড়া পর্যটকদের খাবার ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত করে তাঁদের দ্রুত সমতলে নামিয়ে আনা। কর্তৃপক্ষ নিয়মিত পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং পর্যটকদের আতঙ্কিত না হওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।