উন্নত প্রযুক্তিতে দেশে এলপিজি উৎপাদন, আমদানির ওপর নির্ভরতা হ্রাসের চ্যালেঞ্জ

রান্নার অপরিহার্য উপাদান তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজি মূলত খনিজ তেল পরিশোধন এবং প্রাকৃতিক গ্যাস পৃথকীকরণের মাধ্যমে উৎপাদিত হয়। মাটির নিচ থেকে উত্তোলিত অপরিশোধিত তেল রিফাইনারিতে উচ্চ তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করলে প্রোপেন ও বিউটেন মিশ্রিত হালকা গ্যাস নির্গত হয়। বর্তমানে ভারতের মোট চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ অভ্যন্তরীণভাবে উৎপাদিত হচ্ছে। রিলায়েন্সের জামনগর শোধনাগারসহ হলদিয়া, পারাদ্বীপ ও বিশাখাপত্তনমের মতো বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি কেন্দ্রে এই উৎপাদন প্রক্রিয়া চলে।
প্রযুক্তিগতভাবে এলপিজিকে উচ্চ চাপে তরল করে সিলিন্ডারে সংরক্ষণ করা হয় যাতে অল্প জায়গায় বেশি গ্যাস রাখা সম্ভব হয়। ব্যবহারের সময় চাপ কমলে এটি পুনরায় গ্যাসে রূপান্তরিত হয়ে ওভেনে পৌঁছায়। উল্লেখ্য যে, এলপিজি মূলত গন্ধহীন। কোনো কারণে গ্যাস লিক করলে তা শনাক্ত করার জন্য এতে বিশেষভাবে ‘ইথাইল মারক্যাপ্টান’ নামক তীব্র গন্ধযুক্ত রাসায়নিক মেশানো হয়, যা ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
বর্তমানে ভারত তার এলপিজি চাহিদার সিংহভাগ মধ্যপ্রাচ্য ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করে। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা বা যুদ্ধের কারণে সরবরাহ ব্যাহত হলে দেশে গ্যাস সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সরকার উজ্জ্বলা যোজনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে গ্যাস পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। বর্তমান ৩৯৯.৭ মিলিয়ন গ্রাহকের বিশাল চাহিদা মেটাতে অভ্যন্তরীণ পরিকাঠামো উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি।