এআই দাপটেও সুরক্ষিত থাকবে যেসব পেশা জেনে নিন বিশদ

বর্তমান যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর দ্রুত উত্থান কর্মক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রযুক্তির এই জয়জয়কারের মধ্যেও অনেক চাকরিজীবী তাঁদের কর্মসংস্থান নিয়ে গভীর চিন্তিত। তবে এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে প্রখ্যাত স্কিনকেয়ার ব্র্যান্ড ‘ডার্মালজিকা’-র প্রতিষ্ঠাতা জেন ওয়ারভান্ড এক আশাবাদী বার্তা দিয়েছেন। তাঁর মতে, প্রযুক্তি যত উন্নতই হোক না কেন, মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ বা ‘হিউম্যান কানেকশন’ হবে ভবিষ্যতের প্রধান কর্মসংস্থান সুরক্ষাকবচ।
জেন ওয়ারভান্ড প্রযুক্তি এবং মানবিকতার সংমিশ্রণকে ‘হাই-টেক’ বনাম ‘হাই-টাচ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, এআই অত্যন্ত দক্ষতার সাথে তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারলেও মানুষের মতো আবেগ, দয়া বা সহানুভূতি প্রকাশ করতে সক্ষম নয়। রান্না করা, অন্যের সেবা করা বা কারোর সাথে সহমর্মিতার সাথে কথা বলার মতো কাজগুলো কেবল মানুষের পক্ষেই সম্ভব। উদাহরণস্বরূপ, একটি রোবট হয়তো নির্ভুলভাবে রোগ নির্ণয় করতে পারে, কিন্তু অসুস্থ রোগীকে মানসিক সাহস ও ভরসা দেওয়ার ক্ষমতা কেবল একজন চিকিৎসক বা নার্সেরই থাকে।
ভবিষ্যতে এমন কিছু ক্ষেত্র রয়েছে যেখানে এআই মানুষের জায়গা নিতে পারবে না। পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পে অতিথিদের ব্যক্তিগত যত্ন নেওয়া, স্বাস্থ্য পরিষেবা ও সামাজিক কাজ এবং গ্রাহক পরিষেবার মতো ক্ষেত্রগুলো মানুষের মাধ্যমেই পরিচালিত হবে। কোনো গ্রাহক যখন সমস্যার সম্মুখীন হন, তখন একটি যান্ত্রিক কণ্ঠস্বরের চেয়ে একজন মানুষের সহমর্মিতা মেশানো কণ্ঠস্বর ব্র্যান্ডের প্রতি বিশ্বাসযোগ্যতা অনেক বাড়িয়ে দেয়।
বর্তমান প্রজন্মের তরুণদের উদ্দেশ্যে জেন বিশেষ পরামর্শ দিয়েছেন। কোডিং বা অ্যাকাউন্টিংয়ের মতো চিরাচরিত পেশার ঝুঁকি কমাতে তিনি ‘সফট স্কিল’ বা দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন। আগে অন্যের সাথে মেলামেশা বা কথা বলার দক্ষতা বাড়তি গুণ হিসেবে দেখা হলেও, এআই যুগে এটিই হবে অপরিহার্য যোগ্যতা। যদি কারোর বর্তমান পেশা এআই-এর কারণে ঝুঁকির মুখে পড়ে, তবে সেই দক্ষতা ব্যবহার করে ইভেন্ট প্ল্যানিংয়ের মতো সৃজনশীল ক্ষেত্রে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব।
শিক্ষা মানে কেবল ডিগ্রি অর্জন নয়, বরং পরিস্থিতির সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতা। জেন ওয়ারভান্ডের মতে, এআই যা করতে পারে না তা হলো আন্তরিক সংযোগ স্থাপন। অন্যের আবেগ বুঝতে পারা এবং দয়ার সাথে আচরণ করা এমন একটি দক্ষতা যা প্রতিনিয়ত অনুশীলনের মাধ্যমে অর্জন করা যায়। পরিশেষে বলা যায়, প্রযুক্তির লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে নিজের ভেতরের মানবিক সত্তাকে বাঁচিয়ে রাখাই হবে আসল পেশাদারিত্ব।