এআই প্রযুক্তির প্রভাবে ভারতের আইটি খাতে ধসের আশঙ্কা

সিট্রিনি রিসার্চের ‘দ্য ২০২৮ গ্লোবাল ইন্টেলিজেন্স ক্রাইসিস’ শীর্ষক একটি রিপোর্টে ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২৮ সালের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর দ্রুত প্রসারের ফলে টিসিএস, ইনফোসিস ও উইপ্রোর মতো শীর্ষস্থানীয় সংস্থাগুলো বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়তে পারে। মূলত এআই-চালিত অটোমেশনের কারণে প্রচলিত ব্যবসায়িক মডেলগুলো ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতীয় আইটি খাতের বার্ষিক ২০০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি বাজার কোডিং এজেন্টদের সহজলভ্যতায় বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে টাকার মান ডলারের তুলনায় প্রায় ১৮ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আমেরিকান ডেভেলপারদের তুলনায় ভারতীয় কর্মীদের সস্তা শ্রমের যে সুবিধা এতদিন ছিল, এআই প্রযুক্তির ন্যূনতম ব্যয়ের কাছে তা এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রযুক্তি সংস্থাগুলো এআই-তে বিনিয়োগ বাড়িয়ে কর্মী ছাঁটাই করছে, যা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এনভিডিয়া বা টিএসএম-এর মতো হার্ডওয়্যার নির্মাতারা লাভবান হলেও, পরিষেবা নির্ভর দেশ হিসেবে ভারত আইএমএফ-এর হস্তক্ষেপের মতো পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে যেতে পারে। প্রযুক্তি ও অর্থনীতির এই আসাম লড়াই ২০২৭ সাল নাগাদ চুক্তি বাতিলের হার আরও বাড়িয়ে দেবে।