এক কেজি আটার দাম আকাশছোঁয়া, পাকিস্তানে ভিখারিদের চেয়েও খারাপ দশা আমজনতার

বিশ্বজুড়ে এখন যুদ্ধের দামামা। একদিকে ইরান ও ইজরায়েলের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে কাঁপছে গোটা দুনিয়া, আর ঠিক সেই আবহেই প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যেও সংঘাত চরম আকার ধারণ করেছে। এই দুই দেশের লড়াইয়ের সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের পকেটে। এমনিতেই পাকিস্তান দীর্ঘ সময় ধরে চরম আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তার ওপর আফগানিস্তানের সাথে এই যুদ্ধ পরিস্থিতি দেশটিকে এক অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
আকাশছোঁয়া অগ্নিমূল্য এবং সাধারণ মানুষের হাহাকার
বর্তমানে পাকিস্তানে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। বাজার দর অনুযায়ী, পাকিস্তানে ১০ কেজি আটার এক একটি প্যাকেটের দাম ৮৯০ থেকে শুরু করে ১৫০০ পাকিস্তানি রুপি পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে। অর্থাৎ, মাত্র এক কেজি আটা কিনতেই মানুষকে গুনতে হচ্ছে ৮৯ থেকে ১৫০ রুপি।
২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পাকিস্তানে মুদ্রাস্ফীতির হার ৫.৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অথচ প্রতিবেশী দেশ আফগানিস্তানে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে এই হার ছিল মাত্র ২.২ শতাংশ। এই তুলনামূলক চিত্রই স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, পাকিস্তানের অর্থনৈতিক অবস্থা কতটা শোচনীয়।
চরম খাদ্য সংকট এবং ভবিষ্যতের কালো মেঘ
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে। বর্তমানে পাকিস্তানে প্রায় ২.২ মিলিয়ন টন গমের ঘাটতি রয়েছে। একদিকে মজুত খাদ্যের অভাব এবং অন্যদিকে যুদ্ধের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়া—এই দুইয়ের জাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছে সাধারণ পাকিস্তানি নাগরিকরা।
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, যদি দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি না হয়, তবে পাকিস্তানে খাদ্যাভাব এমন পর্যায়ে পৌঁছাবে যা সামাল দেওয়া সরকারের পক্ষে আসাম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। যুদ্ধের অজুহাতে অসাধু ব্যবসায়ীরাও কালোবাজারি শুরু করেছে, যার ফলে বাজারে আটা বা গমের মতো মৌলিক খাদ্যপণ্যের দাম প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। সব মিলিয়ে পাকিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতি এখন খাদের কিনারে এসে দাঁড়িয়েছে।