এক রাতেই ধ্বংস হবে ইরান! ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারির মুখে পালটা প্রতিরোধ তেহরানের

জ্বালানি সংকট ও ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির আবহে ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার সংঘাত এক চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। তেহরানকে দেওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেধে দেওয়া ‘ডেডলাইন’ আজই শেষ হচ্ছে। এই সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার ঠিক আগেই ফের একবার রণংদেহী মেজাজে ধরা দিলেন ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, প্রয়োজনে এক রাতেই ইরানকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে আমেরিকা। আলোচনার টেবিলে ইরান না বসলে বা হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত না করলে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু এবং পরিকাঠামোয় বড়সড় হামলার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই হুমকির পর আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি ইতিমধ্যে মার্কিন সেনাদের যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এর পাশাপাশি ইরানের সাধারণ মানুষকে সশস্ত্র হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর বার্তাও দিয়েছেন তিনি। এর আগে ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব আসলেও ট্রাম্প তা নাকচ করে দেন এবং জানান যে, তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি এই যুদ্ধবিরতির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। এমনকি ইরানের তেল সম্পদ দখলের সুপ্ত ইচ্ছার কথাও তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
অন্যদিকে, মার্কিন চাপের মুখে মাথা নত করতে নারাজ ইরানও। ট্রাম্পের ডেডলাইন শেষ হওয়ার মুখে দাঁড়িয়ে তেহরান দেশজুড়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলি রক্ষায় ‘মানব বন্ধন’ বা হিউম্যান চেইন গড়ার ডাক দিয়েছে। ইরানের ক্রীড়া ও যুব মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে মূলত ছাত্রছাত্রী, শিল্পী এবং তরুণ প্রজন্মের উদ্যোগেই এই কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। ‘উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য ইরানের তরুণদের মানব বন্ধন’ নামক এই কর্মসূচির মাধ্যমে ট্রাম্পের হুমকির পালটা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে চাইছে ইরান সরকার। দুই দেশের এই অনড় অবস্থানে বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কা প্রবল হচ্ছে।