এপস্টেইনের যৌনচক্রের অন্ধকার দিক উন্মোচন: নির্যাতিতা রিনা ওহর বিস্ফোরক বয়ান

যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের নারকীয় অত্যাচারের ভয়াবহ স্মৃতি প্রকাশ্যে আনলেন নির্যাতিতা রিনা ওহ। ১৯৯০-এর দশকের সেই অন্ধকার দিনগুলোর কথা স্মরণ করে তিনি জানান, কীভাবে অল্পবয়সি মেয়েদের ফাঁদে ফেলা হতো। রিনা যখন ২১ বছর বয়সে এই চক্রে জড়িয়ে পড়েন, তখন ৪৭ বছর বয়সি এপস্টেইন শুরুতে প্রশংসা করলেও পরে তাকে শরীর নিয়ে কটুক্তি ও মানসিকভাবে হেনস্তা শুরু করেন। এমনকি রিনার শৈশবের ট্রমা ও মানসিক দুর্বলতাকে হাতিয়ার করে চলত প্রতিনিয়ত নির্যাতন।
রিনা জানান, স্কলারশিপ দেওয়ার মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে প্রলুব্ধ করা হয়েছিল। বিদেশে থাকাকালীন আর্থিক সংকটে ফেলে তাকে বাধ্য করা হয় এপস্টেইনের দ্বারস্থ হতে। সেখানে মেসেজ রুমের আড়ালে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আনাগোনা ছিল এবং তথ্য ফাঁস করলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হতো। ফ্লোরিডা সফরের সময় অন্য এক তরুণীর কাছ থেকে এপস্টেইনের গোপন কুকীর্তির কথা জানতে পারায় তাকে চরম বিপাকে পড়তে হয়েছিল বলে রিনা দাবি করেন।
সম্প্রতি এই মামলায় ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর গ্রেপ্তার হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন রিনা। তিনি অন্যান্য নির্যাতিতাদের একতাবদ্ধ হওয়ার ডাক দিয়ে জানান, সত্য উদঘাটনে তাদের লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। এই অপরাধচক্রে জড়িত প্রত্যেকের শাস্তির দাবি জানিয়ে তিনি পাঠকদের সতর্ক করেছেন। পেশাদার সাংবাদিকতার মানদণ্ডে এই ঘটনাটি প্রভাবশালী ব্যক্তিদের লালসার শিকার হওয়া অসহায় মেয়েদের দীর্ঘদিনের চাপা থাকা যন্ত্রণার এক জ্বলন্ত প্রতিচ্ছবি।