এপ্রিলেই কি মিটবে ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ? ট্রাম্পের দাবি ঘিরে ঘনিয়ে উঠছে নতুন সংকট

এপ্রিলেই কি মিটবে ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ? ট্রাম্পের দাবি ঘিরে ঘনিয়ে উঠছে নতুন সংকট

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ নিয়ে বড় ঘোষণা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত ২৯ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে শেষ হতে পারে বলে তিনি দাবি করেছেন। ১ এপ্রিল এক বিবৃতিতে ট্রাম্প জানান, আমেরিকা দ্রুত ইরান ত্যাগ করতে চায় এবং কোনো বিশেষ চুক্তি ছাড়াই হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করে দিয়ে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিতে পারে। ট্রাম্পের এই বার্তা যুদ্ধের ইতি টানার ইঙ্গিত দিলেও বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না।

ট্রাম্পের এই দাবি সত্যি হলেও বিশ্বজুড়ে চরম অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং বিশেষ করে তেলের বাজারে মন্দা কাটতে অনেক সময় লাগবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যুদ্ধের কারণে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখায় বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের লক্ষ্য আমেরিকার সামরিক সংশ্লিষ্টতা কমানো, তবে যুদ্ধ পরবর্তী পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক করতে অন্তত ছয় থেকে আট সপ্তাহ সময় প্রয়োজন হতে পারে। এছাড়া বোমাবর্ষণে জ্বালানি পরিকাঠামোর যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা মেরামত করতে দীর্ঘ সময় লাগবে।

যুদ্ধের প্রভাবে পণ্যবাহী জাহাজের ভাড়ার হারও আকাশচুম্বী হয়েছে। বর্তমানে বিশাল তেল ট্যাঙ্কারের (ভিএলসিসি) দৈনিক ভাড়া অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে সাত লক্ষ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে। যুদ্ধ থেমে যাওয়ার পরেও চাহিদা বাড়ার কারণে এই ভাড়া চটজলদি কমার সম্ভাবনা নেই। পরিস্থিতির স্বাভাবিক হতে অন্তত দুই থেকে ছয় সপ্তাহ লেগে যেতে পারে। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদী সংকটের ফলে যে সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে ওঠা কেবল আমেরিকা বা ইরানের বিষয় নয়, বরং ভারতসহ সমগ্র বিশ্বের কাছে এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পরিশেষে, ইরান যে রকম আক্রমণাত্মক মেজাজে রয়েছে, তাতে যুদ্ধ সত্যিই দু-তিন সপ্তাহে থামবে কি না তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। ট্রাম্পের কথা অনুযায়ী যুদ্ধ শেষ হলেও জ্বালানি সংকট ও মুদ্রাস্ফীতির মতো বড় চ্যালেঞ্জগুলো বিশ্ব অর্থনীতিকে আরও কিছুকাল ভোগাবে। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা সামগ্রিক স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করেছে এবং এর প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *