এবার রাজপথ কাঁপাবে ই-বাইক দিদিরা! জানুন দিল্লি সরকারের এই বিশেষ প্রকল্পের মাধ্যমে মহিলারা কীভাবে স্বাবলম্বী হবেন

দিল্লির রাস্তায় এবার এক নতুন বিপ্লব আসতে চলেছে। মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং তাঁদের স্বাবলম্বী করে তুলতে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সরকার নিয়ে এল ‘ই-বাইক দিদি’ প্রকল্প। এই বিশেষ উদ্যোগের মাধ্যমে যেমন কর্মসংস্থানের নতুন দিশা তৈরি হবে, তেমনই দূষণমুক্ত দিল্লির পথেও এক বড় পদক্ষেপ নেবে প্রশাসন।
কী এই ই-বাইক দিদি প্রকল্প?
সহজ কথায় বলতে গেলে, এটি মহিলাদের জন্য এবং মহিলাদের দ্বারাই পরিচালিত একটি বিশেষ পরিবহন পরিষেবা। এই প্রকল্পের অধীনে মহিলা চালকরা ইলেকট্রিক স্কুটারের মাধ্যমে মহিলা যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দেবেন। প্রাথমিক পর্যায়ে দিল্লি মেট্রো স্টেশন, জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র এবং জনাকীর্ণ এলাকাগুলোতে এই পরিষেবা চালু করা হবে। ট্রায়াল সফল হলে খুব শীঘ্রই গোটা দিল্লি জুড়ে ‘ই-বাইক দিদি’দের দাপট দেখা যাবে।
কারা আবেদন করতে পারবেন?
আপনি যদি দিল্লির স্থায়ী বাসিন্দা হন এবং নিজের পায়ে দাঁড়াতে চান, তবে এই সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করবেন না। আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় শর্তাবলি হলো:
- আবেদনকারীর বয়স অবশ্যই ১৮ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে হতে হবে।
- চালকের কাছে বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক।
- নির্বাচিত মহিলাদের সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এই প্রশিক্ষণে ট্রাফিক নিয়ম, স্কুটার রক্ষণাবেক্ষণ এবং যাত্রীদের সঙ্গে ব্যবহারের কৌশল শেখানো হবে।
বুকিং প্রক্রিয়া এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা
এই পরিষেবা ব্যবহার করা অত্যন্ত সহজ। দিল্লি সরকার বিভিন্ন অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের সঙ্গে অংশীদারিত্ব করেছে, যার মাধ্যমে মহিলারা ঘরে বসেই বাইক বুক করতে পারবেন। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সরকার কোনো আপস করেনি:
- এই পরিষেবাটি শুধুমাত্র মহিলা যাত্রীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।
- প্রতিটি ইলেকট্রিক বাইকে জিপিএস (GPS) ট্র্যাকিং সিস্টেম থাকবে, যাতে প্রতিটি সফরের ওপর নজর রাখা যায়।
- যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য রাইডারদের বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হবে।
দিল্লি সরকারের এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ একদিকে যেমন বেকারত্ব দূর করবে, অন্যদিকে রাতের শহরে বা ভিড়ের মধ্যে মহিলাদের যাতায়াতকে অনেক বেশি সুরক্ষিত ও আরামদায়ক করে তুলবে।