এলপিজি সঙ্কট ও আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি: কাজ হারিয়ে ফের গ্রামে ফিরছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা

দেশজুড়ে তীব্র এলপিজি সঙ্কট ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে চরম বিপাকে পড়েছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। দিল্লি, মুম্বই, হায়দরাবাদ ও সুরাটের মতো বড় শহরগুলোতে রান্নার গ্যাসের আকাশচুম্বী দাম ও কালোবাজারির ফলে ক্ষুদ্র হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে শ্রমিকদের ওপর। জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে না পেরে এবং কর্মসংস্থান হারিয়ে বহু শ্রমিক শহর ছেড়ে আবারও নিজেদের গ্রামে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
গ্যাসের দাম বাড়ায় ছোট দোকানগুলোতে খাবারের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বল্প আয়ের শ্রমিকরা দু’বেলা খাবারের সংস্থান করতে হিমশিম খাচ্ছেন, ফলে অনেকেই দিনে মাত্র একবেলা খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন। এই পরিস্থিতির কারণে আবাসন নির্মাণ শিল্প এবং খাদ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে তীব্র শ্রমিক সঙ্কট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে গিগ কর্মীরা সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, কারণ অনেক শহরেই খাবার ডেলিভারির হার প্রায় ৬০ শতাংশ কমে গিয়েছে।
বর্তমানে তৈরি হওয়া এই অর্থনৈতিক অচলাবস্থা অনেককেই করোনাকালের ভয়াবহ লকডাউনের দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। নয়ডার মতো এলাকায় রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার চড়া দামে বিক্রি হওয়ায় ছোট ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন। শ্রমিক সংগঠনের দাবি অনুযায়ী, লক্ষ লক্ষ মানুষ ইতিমধ্যেই কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে এই সঙ্কট আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা দেশের শ্রমবাজারে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।