এসআইআর তালিকা থেকে ৯১ লক্ষ নাম বাদ, অধিকাংশ হিন্দু ভোটারের নাম কাটায় চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ তৃণমূলের

রাজ্যের ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার পর ৯১ লক্ষ নাম বাদ পড়া নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে বঙ্গ রাজনীতিতে। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে এক বিস্ময়কর পরিসংখ্যান তুলে ধরেছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের দাবি, ঝাড়াই-বাছাইয়ের পর বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে সিংহভাগই হিন্দু সম্প্রদায়ের। শাসক শিবিরের দেওয়া হিসেব অনুযায়ী, বাদ পড়া ভোটারদের ৬৩ শতাংশের বেশি হিন্দু এবং ৩৪ শতাংশ মুসলিম। তৃণমূলের এই দাবি ঘিরে ইতিমধ্য়েই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
তৃণমূলের এই পরিসংখ্যানের সত্যতা নিয়ে প্রধান বিরোধী দল বিজেপি প্রশ্ন তুললেও, শাসক দল তা উড়িয়ে দিয়েছে। তৃণমূলের মুখপাত্রের দাবি, এসআইআর প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই সাংগঠনিক স্তরে তাঁরা সতর্ক নজর রেখেছিলেন এবং কমিশনের দেওয়া তথ্য থেকেই এই চুলচেরা বিশ্লেষণ সম্ভব হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ভবানীপুরের তথ্য পেশ করেছে তৃণমূল। সেখানে মোট ৫০ হাজার ৯৮৭ জন বাদ পড়া ভোটারের মধ্যে ৩৭ হাজার ২২৭ জন হিন্দু এবং ১২ হাজার জন মুসলিম। মৃত ও স্থানান্তরিত ভোটারদের তালিকার বাইরেও যে বিশাল সংখ্যক সাধারণ মানুষের নাম বাদ পড়েছে, সেখানেও হিন্দুদের সংখ্যাই বেশি বলে দাবি করা হয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর অন্তত ৬০ লক্ষ নাম বিচারাধীন ছিল। বিচারপতিদের ট্রাইব্যুনাল সেই নামগুলি যাচাই করে ৭ এপ্রিল নিষ্পত্তি ঘটায়। দেখা গিয়েছে, এই তালিকার ৩২ লক্ষ ভোটার বৈধ হিসেবে বিবেচিত হলেও বাদ পড়েছেন প্রায় ২৭ লক্ষ। তৃণমূলের বিশ্লেষণ বলছে, এসআইআর-এর প্রথম পর্বে বাদ পড়া ৫৮ লক্ষ ভোটারের মধ্যে ৪৪ লক্ষই ছিল হিন্দু নাম এবং ১৩ লক্ষের কিছু বেশি ছিল মুসলিম নাম। পরবর্তী তালিকায় হিন্দু ভোটারদের নাম বাদ পড়ার এই প্রবণতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশেষ করে ভবানীপুর কেন্দ্রের চূড়ান্ত তালিকায় বাদ পড়া ২৩৪২ জনের মধ্যে ২২৯২ জনই হিন্দু এবং মুসলিম ভোটারের সংখ্যা মাত্র ২৩। এছাড়া বিচারাধীন ৩৮৭৫ জনের মধ্যে ২০৬৪ জন হিন্দু ও ১৬০১ জন মুসলিমের নাম বাদ গিয়েছে। ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক মৃত ও স্থানান্তরিত ভোটারের নাম কাটা গেলেও, জাতিগত সমীকরণের এই নতুন হিসেব আগামী দিনের রাজনীতিতে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই পরিসংখ্যান নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে এখন শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে চাপানউতোর তুঙ্গে।