এসআইআর বিতর্কে উত্তপ্ত রাজ্য নির্বাচন কমিশনের কোপে খণ্ডঘোষের জয়েন্ট বিডিও

এসআইআর বিতর্কে উত্তপ্ত রাজ্য নির্বাচন কমিশনের কোপে খণ্ডঘোষের জয়েন্ট বিডিও

নির্বাচন কমিশনের কার্যপদ্ধতি এবং এসআইআর (SIR) নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনামূলক মন্তব্য করে বড়সড় আইনি বিপাকে পড়লেন পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষের জয়েন্ট বিডিও জ্যোৎস্না খাতুন। ইতিপূর্বে তাঁকে এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সাসপেন্ড করা হলেও, এবার সরাসরি তাঁর বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের এই কঠোর পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

অভিযোগ ও আইনি পদক্ষেপ

খণ্ডঘোষ বিধানসভার রিটার্নিং অফিসার তথা বর্ধমান দক্ষিণের মহকুমা শাসক খণ্ডঘোষ থানায় এই অভিযোগ দায়ের করেন। জয়েন্ট বিডিও জ্যোৎস্না খাতুনের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৫২ এবং ৩৫৩(২) ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযোগের প্রতিলিপি ইতিমধ্যে এডিএম (নির্বাচন) সহ প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে পাঠানো হয়েছে। কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও সমালোচনা

সাম্প্রতিক এসআইআর পর্বে রাজ্যে আড়াইশোর বেশি মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ। এরপরও বিপুল সংখ্যক বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ দানা বেঁধেছে। প্রথম দফার ভোটের তালিকা ফ্রিজ হয়ে যাওয়ায় অনেক ভোটার এখনও ধোঁয়াশার মধ্যে রয়েছেন। ঠিক এই পরিস্থিতেই জ্যোৎস্না খাতুন ফেসবুকে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে একটি পোস্ট করেন। সরকারি আধিকারিক হয়েও কমিশনের সমালোচনা করায় একে ‘সার্ভিস রুল’ বা চাকরির বিধিভঙ্গ হিসেবে দেখছে কমিশন।

রাজনৈতিক বাগযুদ্ধ ও প্রতিক্রিয়া

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক লড়াই তুঙ্গে উঠেছে।

  • বিজেপির অবস্থান: বিজেপি নেতা রামানন্দ মজুমদারের মতে, প্রশাসনের একাংশ শাসকদলের হয়ে কাজ করছে এবং এই ঘটনা তারই প্রমাণ।
  • তৃণমূলের পাল্টাসওয়াল: তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সাধারণ সম্পাদক বাগবুল ইসলাম এই এফআইআর-এর বিরোধিতা করেছেন। তাঁর দাবি, এসআইআর কার্যকর করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি সচক্ষে দেখে বিবেকের তাড়নায় তিনি মুখ খুলেছিলেন। তাঁর প্রশ্ন, যদি সরকারি আধিকারিকের পোস্ট বিধিভঙ্গ হয়, তবে নির্বাচন আধিকারিকদের নির্দিষ্ট দলের নেতাদের সঙ্গে ঘোরাফেরা কোন ধরনের নিরপেক্ষতা?

বাকস্বাধীনতা বনাম প্রশাসনিক শৃঙ্খলা

এই ঘটনাটি এখন বৃহত্তর বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একদিকে প্রশাসনের দাবি, নির্বাচনের মতো সংবেদনশীল সময়ে সরকারি পদে থেকে কমিশনের সমালোচনা করা শৃঙ্খলা পরিপন্থী। অন্যদিকে, সাধারণ নাগরিক ও কর্মীদের একাংশের মতে, নিজের মতামত প্রকাশ করা একজন ব্যক্তির মৌলিক অধিকার। জয়েন্ট বিডিও-র বিরুদ্ধে এই আইনি পদক্ষেপ সেই অধিকার কেড়ে নেওয়ার শামিল কি না, তা নিয়ে চর্চা চলছে সর্বত্র।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *