ওমান উপকূলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মৃত্যু, কফিনবন্দি হয়ে ফিরলেন ভারতীয় নাবিক দীক্ষিত সোলাঙ্কি

ওমান উপকূলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ভারতীয় নাবিক দীক্ষিত সোলাঙ্কির নিথর দেহ দীর্ঘ ৩৫ দিনের দুঃসহ অপেক্ষা শেষে দেশে ফিরল। সোমবার ভোরে মুম্বই বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায় ৩৩ বছর বয়সী এই তরুণ নাবিকের কফিন। গত ১ মার্চ ওমান উপকূলে এমটি এমকেডি ভিয়োম নামক একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়লে তাঁর মৃত্যু হয়। আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার আবহে এই ঘটনা ঘটলেও দীক্ষিতের মৃত্যু নিয়ে প্রথম থেকেই ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল, যার ফলে শোকগ্রস্ত পরিবারটি গভীর মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে সময় অতিবাহিত করেছে।
মৃত নাবিকের পরিবার সরকারি বয়ান এবং শিপিং কো ম্পা নির তথ্যের ওপর আস্থা হারিয়েছে। ফলে বর্তমানে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া স্থগিত রেখে মৃতদেহ শনাক্তকরণের জন্য ডিএনএ পরীক্ষার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। বাবা অমৃতলাল সোলাঙ্কি জানিয়েছেন, নিজের চোখে ছেলের দেহ না দেখা পর্যন্ত তিনি এই মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না। ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর উদ্ধার হওয়া অন্যান্য নাবিকরা ফিরলেও দীক্ষিতের ব্যক্তিগত ল্যাপটপ, ফোন এবং ডায়েরি রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে যাওয়ায় পরিবারের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।
শিপিং কো ম্পা নি ‘ভি শিপস ইন্ডিয়া’-র নীরবতা এবং ঘটনার প্রকৃত তথ্য গোপন করার অভিযোগে পরিবারটি বম্বে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়। আদালতের হস্তক্ষেপ এবং আইনি চাপের মুখে অবশেষে ওমান উপকূল থেকে দীক্ষিতের দেহ ভারতে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। দীর্ঘ ১ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা অনিশ্চয়তা ও প্রশাসনিক টালবাহানার অবসান ঘটলেও, ঘটনার স্বচ্ছতা ও প্রকৃত কারণ জানতে তদন্তের দাবিতে অনড় রয়েছেন স্বজনহারা পরিবারটি।