“ওরা বেঁচে আছে শুধু কথা বলার জন্য!” ট্রাম্পের তীব্র কটাক্ষে ফুঁসছে ইরান

ইসলামাবাদে চলমান শান্তি আলোচনার মধ্যেই আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র বাকযুদ্ধ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি উস্কানিমূলক বার্তার প্রেক্ষিতে ইরান অত্যন্ত কঠোর ভাষায় তার জবাব দিয়েছে। দুই দেশের এই কূটনৈতিক সংঘাত এখন বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্য ও ইরানের পাল্টা অবস্থান
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ইরানকে উদ্দেশ্য করে এক চাঞ্চল্যকর পোস্ট করেন। তিনি দাবি করেন যে, আন্তর্জাতিক জলপথ ব্যবহার করে বিশ্বকে ব্ল্যাকমেইল করা ছাড়া ইরানের হাতে আর কোনো শক্তি বা ‘কার্ড’ নেই। ট্রাম্প আরও যোগ করেন, ইরান আজ টিকে আছে শুধুমাত্র আলোচনার টেবিলে বসার সুযোগ পেয়েছে বলে।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সিউলে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস আন্তর্জাতিক আইন ও ভৌগোলিক অবস্থানের দোহাই দিয়ে কড়া বার্তা পাঠিয়েছে। ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে যে, হরমুজ প্রণালী কোনো ‘আন্তর্জাতিক জলসীমা’ নয়। এটি ইরান ও ওমানের আঞ্চলিক সমুদ্রসীমার অন্তর্ভুক্ত। ফলে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এই অঞ্চলের ওপর ইরানের সার্বভৌম অধিকারকে সম্মান জানানো উচিত।
অবিশ্বাসের ছায়ায় শান্তি আলোচনা
ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা শুরু হলেও আমেরিকার ওপর বিন্দুমাত্র আস্থা রাখতে পারছে না তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শনিবার স্পষ্টভাবে আমেরিকাকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার মতে:
- ট্রাম্প প্রশাসন অতীতে বারবার আন্তর্জাতিক চুক্তি ও প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করেছে।
- আমেরিকার ক্রমাগত হুমকির মুখে কোনো সুস্থ আলোচনা সম্ভব নয়।
- ইরান এই সংলাপে অংশ নিচ্ছে গভীর অবিশ্বাসের জায়গা থেকে।
বিশ্লেষণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থানের পেছনে মূলত ইরানকে আলোচনার টেবিলে চাপে রাখার কৌশল কাজ করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ট্রাম্প এর আগে হুমকি দিয়েছিলেন যে, ইরান যদি চুক্তিতে না আসে তবে পুনরায় বোমাবর্ষণ শুরু করা হবে। মূলত হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পথকে কেন্দ্র করে ইরান যে প্রভাব খাটায়, তা নস্যাৎ করাই আমেরিকার লক্ষ্য। অন্যদিকে, ইরান নিজের আঞ্চলিক অধিকার রক্ষার প্রশ্নে কোনো আপস না করার ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
একঝলকে
- হরমুজ প্রণালীকে আন্তর্জাতিক জলসীমা মানতে নারাজ ইরান; এটি তাদের আঞ্চলিক সীমানা বলে দাবি।
- ট্রাম্পের মতে, আলোচনার সুযোগ না থাকলে ইরানের কোনো অস্তিত্ব থাকত না।
- ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আমেরিকাকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
- চরম অবিশ্বাসের মধ্য দিয়েই ইসলামাবাদে শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে।
- দাবি না মানলে পুনরায় সামরিক হামলার হুমকি দিয়ে রেখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।