ওষুধ রপ্তানিতে ১০০ শতাংশ শুল্কের হুঙ্কার ট্রাম্পের, মাথায় হাত ভারতের ফার্মা কো ম্পা নিগুলোর

ওষুধ রপ্তানিতে ১০০ শতাংশ শুল্কের হুঙ্কার ট্রাম্পের, মাথায় হাত ভারতের ফার্মা কোম্পানিগুলোর

বিশ্বজুড়ে ইরান যুদ্ধের আবহে তেলের দাম ও গ্যাসের সংকটে যখন টালমাটাল পরিস্থিতি, ঠিক তখনই ভারতীয় ওষুধ শিল্পে অশনি সংকেত নিয়ে এল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন ঘোষণা। হোয়াইট হাউসের দেওয়া শর্ত পূরণ না করলে আমেরিকায় ওষুধ রপ্তানির ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বা ট্যারিফ আরোপ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। এই কড়া পদক্ষেপের ফলে ভারতের ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলো বড় ধরনের ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ব্লুমবার্গ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনের আধিকারিকরা বৃহস্পতিবার থেকেই এই নতুন শুল্ক নীতি কার্যকর করতে পারেন। মূলত যে সমস্ত কো ম্পা নি আমেরিকায় কম দামে ওষুধ বিক্রির চুক্তিতে সই করবে না, তাদের ওপরই এই বিশাল অঙ্কের ট্যারিফ চাপানো হবে। বিশেষ করে ব্র্যান্ডেড এবং পেটেন্ট করা ওষুধের ওপর এই শুল্কের বোঝা বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মার্কিন বাজারে ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় স্তরে বিনিয়োগ বাড়াতেই ট্রাম্প এই কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।

ইতিমধ্যেই শুল্কের খাঁড়া থেকে বাঁচতে ফাইজার ও অ্যাস্ট্রাজেনেকার মতো বিশ্বখ্যাত ওষুধ সংস্থাগুলো ফিক্সড প্রাইস এগ্রিমেন্ট বা নির্দিষ্ট মূল্যের চুক্তিতে সই করেছে। এছাড়া এলি লিলি, জনসন অ্যান্ড জনসন এবং মার্কের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো আমেরিকায় নতুন করে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে যে সমস্ত সংস্থা এখনও এই ধরনের কোনো উদ্যোগ নেয়নি বা শর্ত মানতে রাজি হয়নি, তাদের ওপরই ট্রাম্প প্রশাসন ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপিয়ে দিতে চলেছে।

দীর্ঘদিন ধরেই ফার্মা সেক্টরে ১০০ থেকে ২০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানোর পক্ষপাতী ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার মতে, এর ফলে বিদেশি সংস্থাগুলো আমেরিকায় কারখানা তৈরি করতে বাধ্য হবে এবং মার্কিন নাগরিকরা সস্তায় ওষুধ পাবেন। যদিও এর আগে সুপ্রিম কোর্টের কিছু আইনি বাধার কারণে এই পরিকল্পনা পুরোপুরি কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসন বিকল্প উপায়ে এই ট্যারিফ কার্যকরের পথে এগোচ্ছে বলে খবর।

ভারতীয় ফার্মা কো ম্পা নিগুলোর জন্য এই ঘোষণা অত্যন্ত উদ্বেগের। কারণ ভারতের ওষুধ শিল্পের একটি বিশাল বড় বাজার হলো আমেরিকা। প্রচুর ভারতীয় সংস্থা প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ ওষুধ সেখানে রপ্তানি করে। যদি ১০০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়, তবে ওষুধের দাম দ্বিগুণ হয়ে যাবে এবং প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। যদিও কোনো কোনো ক্ষেত্রে ছাড় বা ব্যতিক্রমের কথা শোনা যাচ্ছে, তবুও ভারতীয় রপ্তানিকারকদের মধ্যে এখন চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *