কচ্ছের মরুভূমিতে বিরল রাজপুত্রের জন্ম, পাহারায় ৫০ জন জওয়ানের জেড প্লাস নিরাপত্তা

কচ্ছের মরুভূমিতে বিরল রাজপুত্রের জন্ম, পাহারায় ৫০ জন জওয়ানের জেড প্লাস নিরাপত্তা

গুজরাটের কচ্ছের মরুভূমিতে দীর্ঘ ১০ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে জন্ম নিল বিশ্বের অন্যতম বিরল প্রজাতি ‘গ্রেট ইন্ডিয়ান বাস্টার্ড’-এর একটি শাবক। গত ২৬শে মার্চ ২০২৬-এ ভূমিষ্ঠ হওয়া এই নবজাতককে কেন্দ্র করে বর্তমানে কচ্ছের বনাঞ্চলে সাজ সাজ রব। বন বিভাগ এই বিরল পাখির ছানাটিকে ‘রাজপুত্র’-এর মর্যাদা দিয়ে তার সুরক্ষায় অভাবনীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে, যা কার্যত কোনো বড় মাপের রাজনৈতিক নেতার জেড প্লাস ক্যাটাগরির নিরাপত্তার সমতুল্য।

এই ভিভিআইপি অতিথির নিরাপত্তার দায়িত্বে বর্তমানে নিয়োজিত রয়েছেন ৫০ জনেরও বেশি বনকর্মী। তিনটি পৃথক শিফটে বিভক্ত হয়ে এই জওয়ানেরা দিনরাত চব্বিশ ঘণ্টা পাহারার কাজ চালাচ্ছেন। ছানাটির গতিবিধি ও নিরাপত্তার প্রতিটি মুহূর্তের আপডেট সরাসরি গান্ধীনগর ও আহমেদাবাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হচ্ছে। বন বিভাগ ওই এলাকাটিকে সাময়িকভাবে ‘নো-ম্যানস ল্যান্ড’ ঘোষণা করেছে এবং সাধারণ মানুষের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এমনকি ওয়াচ টাওয়ার থেকে অত্যাধুনিক দূরবীন ও স্পটিং স্কোপের মাধ্যমে তীক্ষ্ণ নজরদারি চালানো হচ্ছে।

শাবকটিকে শিকারি প্রাণী যেমন কুকুর বা শিয়ালের হাত থেকে বাঁচাতে গ্রহণ করা হয়েছে অত্যন্ত কঠোর ও অভিনব কৌশল। শিকারি প্রাণীদের আনাগোনা বন্ধ করতে পার্শ্ববর্তী জলাশয়গুলি কৌশলগতভাবে শুকিয়ে ফেলা হয়েছে এবং ভেঙে যাওয়া বেড়াগুলি দ্রুত মেরামত করা হয়েছে। মা পাখিটির শরীরে লাগানো হয়েছে ট্র্যাকিং ট্যাগ, যার মাধ্যমে তার অবস্থান ও পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। গবাদি পশুর প্রবেশ রুখতে গ্রামবাসীদেরও বিশেষ সতর্কতা প্রদান করা হয়েছে।

প্রকৃতি সংরক্ষণ ও বিরল প্রজাতির বংশবিস্তারের ইতিহাসে এই ঘটনা এক বিশেষ মাইলফলক। ১০ বছর পর এই শাবকটির জন্ম পরিবেশবিদদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। একটি বিরল প্রজাতির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে বন বিভাগের এই যুদ্ধকালীন তৎপরতা প্রমাণ করে যে, বিপন্ন বন্যপ্রাণীদের সুরক্ষায় বর্তমান প্রশাসন কতটা অঙ্গীকারবদ্ধ। এই খুদে ‘রাজপুত্র’ যাতে নিরাপদে বেড়ে উঠে আবারও আকাশে ডানা মেলতে পারে, তার জন্যই এখন নিশ্ছিদ্র পাহারায় কচ্ছের মরুভূমি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *