‘কন্যাদান’ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে লালসার শিকার! ভণ্ড বাবা অশোক খরাতের মুখোশ উন্মোচন

‘কন্যাদান’ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে লালসার শিকার! ভণ্ড বাবা অশোক খরাতের মুখোশ উন্মোচন

ভক্তি ও বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে অন্ধকার জগৎ তৈরি করেছিলেন তথাকথিত ‘ক্যাপ্টেন বাবা’ ওরফে অশোক খরাত। ধর্মীয় গুরুর মুখোশ পরে একের পর এক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়া এই ভণ্ড বাবার নতুন এক ভয়াবহ কীর্তি প্রকাশ্যে এসেছে। এবার বিয়ের প্রতিশ্রুতি ও আশীর্বাদের নাম করে এক তরুণীকে দীর্ঘ তিন বছর ধরে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

ধর্মের আড়ালে লালসার জাল

ঘটনার সূত্রপাত ২০১৯ সালে, যখন নির্যাতিতা তরুণী প্রথমবার অশোক খরাতের সংস্পর্শে আসেন। সেই সময় ওই তরুণীকে ‘সবচেয়ে প্রিয় কন্যা’ হিসেবে সম্বোধন করেন অশোক। এমনকি তরুণীর বিয়ের সময় নিজে দাঁড়িয়ে থেকে ‘কন্যাদান’ করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। বাবার মতো স্নেহ পেয়ে তরুণীর পরিবার অন্ধভাবে এই ভণ্ড সাধুকে বিশ্বাস করতে শুরু করে।

আশীর্বাদের নামে অন্ধকার ঘরে অঘটন

২০২২ সালে ওই তরুণীর বিয়ে ঠিক হলে তিনি তার হবু স্বামীর সঙ্গে অশোক খরাতের আশ্রমে আশীর্বাদ নিতে যান। অভিযোগ অনুযায়ী, সেই সময় অশোক খরাত দম্পতিকে ভয় দেখান যে, বিয়ের আগে কোনো অশুভ দশা কাটানোর জন্য ‘সিদ্ধ পূজা’ করা জরুরি। সেই পূজার নাম করেই তরুণীকে একাকী আশ্রমে ডাকা হয়। পূজার নিয়ম বোঝানোর অজুহাতে তাকে অফিসের একটি নির্জন ঘরে নিয়ে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেখানে প্রসাদের সঙ্গে নেশাদ্রব্য খাইয়ে তরুণীকে অচেতন করে প্রথমবার ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

তিন বছরের নারকীয় নির্যাতন

তদন্তে উঠে এসেছে যে, একবারের নির্যাতনেই থেমে থাকেনি এই ভণ্ড বাবা। ২০২২ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ তিন বছর ধরে ওই তরুণীকে বিভিন্নভাবে ব্ল্যাকমেইল এবং নেশাদ্রব্য খাইয়ে নিয়মিত যৌন হেনস্তা করা হয়েছে। সামাজিক মর্যাদার ভয়ে এতদিন মুখ না খুললেও, সম্প্রতি অশোক খরাতের অন্যান্য কুকীর্তি ফাঁস হতে শুরু করলে ওই তরুণী সাহস করে পুলিশের দ্বারস্থ হন।

প্রশাসনের পদক্ষেপ ও বর্তমান পরিস্থিতি

পুলিশ অভিযুক্ত অশোক খরাতের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় এফআইআর দায়ের করেছে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, শিল্পপতিদের প্রতারণা করা থেকে শুরু করে নারীদের ওপর যৌন নির্যাতন—সবক্ষেত্রেই অশোকের অপরাধের পরিধি বিশাল। এই ভণ্ড বাবার কবলে আর কতজন নারী সর্বস্ব হারিয়েছেন, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশি তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে।

একঝলকে

  • অভিযুক্ত অশোক খরাত ‘ক্যাপ্টেন বাবা’ নামে পরিচিত ছিলেন।
  • ২০১৯ সালে নির্যাতিতাকে নিজের মেয়ে হিসেবে মেনে নিয়ে কন্যাদান করার প্রতিশ্রুতি দেন।
  • ২০২২ সালে বিয়ের আগে বিশেষ পূজার টোপ দিয়ে প্রথমবার ধর্ষণ করা হয়।
  • ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত টানা তিন বছর ধরে তরুণীর ওপর নির্যাতন চলে।
  • বর্তমানে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পুলিশি তদন্ত এবং আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *