কয়লা পাচারকাণ্ডে আইপ্যাক কর্তাদের ডেরায় ইডির ম্যারাথন তল্লাশি অভিযানে তোলপাড় দেশ

কয়লা পাচার মামলার তদন্তে এবার বড়সড় পদক্ষেপ করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ভোটকুশলী সংস্থা আই-প্যাকের একাধিক উচ্চপদস্থ কর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বাসভবন ও দফতরে ম্যারাথন তল্লাশি শুরু করেছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। মূলত পাচার হওয়া কয়লার কালো টাকা এই সংস্থার মাধ্যমে কোথাও বিনিয়োগ করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখাই আধিকারিকদের প্রধান লক্ষ্য। আজকের এই অভিযানে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ডিজিটাল প্রমাণ ইডির হাতে এসেছে বলে সূত্রের খবর।
তদন্তের জাল কেবল পশ্চিমবঙ্গেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এই তল্লাশি অভিযান ছড়িয়ে পড়েছে দেশের মোট তিন মহানগরীতে। দিল্লি, বেঙ্গালুরু এবং হায়দরাবাদের একাধিক ঠিকানায় একযোগে হানা দিয়েছে ইডির পৃথক দল। গোয়েন্দাদের সন্দেহ, কয়লা পাচারের লভ্যাংশের একটি বড় অংশ প্রভাবশালী মহলে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিশেষ ভূমিকা থাকতে পারে। নির্বাচনের আবহে আই-প্যাক ঘনিষ্ঠদের ওপর এই কেন্দ্রীয় হানা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
এদিকে দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন পেশকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক গড় হিসেবে পরিচিত এই কেন্দ্রে আজ মনোনয়ন জমা দেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। তাঁর এই মনোনয়ন পর্বকে কার্যত মহোৎসবে রূপ দিতে উপস্থিত হয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আলিপুর সার্ভে বিল্ডিংয়ে বিশাল বর্ণাঢ্য রোড শো’র মাধ্যমে মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় বিজেপি ও তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও স্লোগান-পাল্টা স্লোগান পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলে।
অন্যদিকে ভোটার তালিকায় গণছাঁটাইয়ের অভিযোগকে কেন্দ্র করে মালদহের কালিয়াচকে নজিরবিহীন উত্তেজনা তৈরি হয়। সেখানে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার মাঝে সাতজন বিচার বিভাগীয় আধিকারিককে প্রায় ৯ ঘণ্টা ঘেরাও করে রাখার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে দেশের শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই ঘটনাকে প্রশাসনিক ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিত করে সিবিআই বা এনআইএ তদন্তের ইঙ্গিত দিয়েছেন। এমনকি মুখ্যসচিব ও ডিজিপি-সহ শীর্ষ কর্তাদের কাছে এই পরিস্থিতির ব্যাখ্যা তলব করেছে আদালত।
সার্বিকভাবে কয়লা পাচার মামলায় কেন্দ্রীয় সংস্থার সক্রিয়তা এবং ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিবাদে আদালতের কড়া অবস্থান রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। একদিকে যখন ইডি প্রভাবশালী যোগসূত্র খুঁজতে দিল্লি থেকে বেঙ্গালুরু চষে ফেলছে, অন্যদিকে তখন বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের নিরাপত্তার প্রশ্নে রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। আগামী ৬ এপ্রিল এই মামলার পরবর্তী শুনানিতে আদালত কী নির্দেশ দেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে ওয়াকিবহাল মহল।