কলকাতার ভোটের লড়াইয়ে বড় ফ্যাক্টর এম ফ্যাক্টর কিস্তিমাত করতে পারে এই আসনগুলি

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে মুসলিম ভোটব্যাঙ্ক বরাবরই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রাজ্যের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩০ শতাংশ সংখ্যালঘু হওয়ায় প্রতিটি রাজনৈতিক দলই এই ভোট নিজেদের ঝুলিতে টানতে মরিয়া। কলকাতার নির্বাচনী মানচিত্রেও এই ‘এম ফ্যাক্টর’ বা মুসলিম ভোটারদের ভূমিকা অত্যন্ত নির্ণায়ক। শহরের বেশ কিছু আসনে সংখ্যালঘু ভোটারদের আধিক্য এতটাই যে, তারাই মূলত জয়-পরাজয় নির্ধারণ করে থাকেন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কলকাতার মেটিয়াবুরুজ কেন্দ্রে প্রায় ৬০ শতাংশ মুসলিম ভোটার রয়েছেন, যা এই আসনটিকে সম্পূর্ণভাবে সংখ্যালঘু প্রভাবিত করে তুলেছে। এছাড়া কলকাতা বন্দরে ৫১ শতাংশ এবং বালিগঞ্জে ৫০ শতাংশ মুসলিম ভোটার থাকায় এই আসনগুলি সরাসরি নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করে। এন্টালি ও চৌরঙ্গীতে এই হার প্রায় ৪০ শতাংশ। অন্যদিকে, বেলেঘাটায় ২৫ শতাংশ এবং জোড়াসাঁকো ও কাশিপুর-বেলগাছিয়ায় ২০ শতাংশ মুসলিম ভোটার থাকায় তারা এখানে ‘সুইং ফ্যাক্টর’ হিসেবে কাজ করেন।
একুশের বিধানসভা নির্বাচনে কলকাতার ১৭টি আসনের সবকটিতেই তৃণমূল কংগ্রেস জয়ী হয়েছিল। বিশেষত মেটিয়াবুরুজ, কলকাতা বন্দর এবং বালিগঞ্জের মতো সংখ্যালঘু প্রধান আসনগুলিতে শাসক দল প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। তবে ছাব্বিশের নির্বাচনে রাজনৈতিক সমীকরণ অনেকটাই বদলেছে। এবার অনেক আসনেই বহুমুখী লড়াইয়ের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, যা তৃণমূলের এই একাধিপত্যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারে।
ভবানীপুর আসনটি এবার বিশেষ চর্চায় রয়েছে, যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি লড়ছেন শুভেন্দু অধিকারী। এই কেন্দ্রে প্রায় ২৪ শতাংশ মুসলিম ভোটার রয়েছেন। এছাড়া কলকাতা বন্দর আসনে মেয়র ফিরহাদ হাকিম নিজের গড় বজায় রাখতে লড়ছেন। বালিগঞ্জ আসনেও এবার তৃণমূল, বিজেপি, সিপিআইএম এবং কংগ্রেসের মধ্যে চতুর্মুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যেখানে ৫০ শতাংশ মুসলিম ভোটারের রায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কলকাতার রাজনীতির আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো হিন্দিভাষী মুসলিম ভোটারদের উপস্থিতি। উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও ঝাড়খণ্ড থেকে আসা এই জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক অগ্রাধিকার স্থানীয় বাঙালি মুসলিমদের থেকে কিছুটা ভিন্ন। মেটিয়াবুরুজ, কলকাতা বন্দর ও ভবানীপুরের মতো এলাকায় এই ভোটাররা বড় ফ্যাক্টর। এই বিচিত্র সমীকরণ এবং ভোটারদের মনোভাব শেষ পর্যন্ত কোন দিকে ঘোরে, তার ওপরই নির্ভর করছে ছাব্বিশের কলকাতার নির্বাচনী ভাগ্য।