কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মানসিক ভারসাম্যহীন রোগীর তাণ্ডব, চিকিৎসকদের তৎপরতায় উদ্ধার

কলকাতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ১৯ বছর বয়সী এক মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের আচমকা তাণ্ডবে চরম আতঙ্ক ছড়াল। শান্তিপুরের বাসিন্দা ওই যুবক দীর্ঘদিন ধরে ‘অবসেসিভ কমপালসিভ ডিসঅর্ডার’ বা ওসিডি (OCD) সমস্যায় আক্রান্ত। জানা গেছে, ঠিকমতো ওষুধ না খাওয়ায় আচমকা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন তিনি। এর ফলে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের একটি ঘরে ঢুকে ভেতর থেকে দরজা আটকে ভাঙচুর শুরু করেন ওই রোগী।
ঘটনার আকস্মিকতায় হাসপাতালের সাধারণ রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দ্রুত খবর দেওয়া হয় পুলিশে। দীর্ঘ সময় ধরে ঘরের ভেতর তাণ্ডব চালানোর পর চিকিৎসক ও পুলিশকর্মীদের যৌথ প্রচেষ্টায় তাঁকে শান্ত করা সম্ভব হয়। যুবকের মানসিক অবস্থা বিবেচনা করে তৎক্ষণাৎ তাঁকে মনোরোগ বিভাগে স্থানান্তরিত করা হয় এবং সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, যুবকটি অস্বাভাবিক উত্তেজনার বশবর্তী হয়ে আসবাবপত্র ও চিকিৎসা সরঞ্জামের ক্ষতি করার চেষ্টা করেন। তবে চিকিৎসকদের ধৈর্য ও মানবিক আচরণে শেষ পর্যন্ত বড় কোনো বিপত্তি ঘটেনি। চিকিৎসার এক পর্যায়ে যুবকের জেদ ও আবদার মেটাতে হাসপাতালের কর্মীরা তাঁকে নতুন পোশাক ও সানগ্লাস কিনে দেন। এই মানবিক উদ্যোগের পর তাঁর আচরণে পরিবর্তন আসে এবং তিনি সম্পূর্ণ শান্ত হন।
শেষ পর্যন্ত ওই যুবকের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা স্থিতিশীল হলে তাঁকে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের নিরাপত্তা ও রোগীদের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়ার ক্ষেত্রে এই ঘটনাটি নতুন করে সচেতনতার বার্তা দিচ্ছে। যথাযথ চিকিৎসায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পরিবারের সদস্যরা।
মেডিকেল কলেজের এই ঘটনা বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রে। পেশাদারিত্বের পাশাপাশি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি কীভাবে একটি জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারে, এই ঘটনা তারই উদাহরণ হয়ে থাকল। বর্তমানে ওই যুবক সুস্থ আছেন এবং পরিবারের সঙ্গে নিজ বাসভবনে ফিরে গিয়েছেন।