কলমেই পুরো সিলেবাস নকলের অভিনব কৌশলে স্তম্ভিত অধ্যাপক

কলমেই পুরো সিলেবাস নকলের অভিনব কৌশলে স্তম্ভিত অধ্যাপক

পরীক্ষার হলে নকল করার জন্য চিরকুট বা বেঞ্চে লিখে রাখার দিন এখন পুরনো। সম্প্রতি স্পেনের এক আইন বিভাগের ছাত্র পাস করার জন্য যে ফন্দি এঁটেছিলেন, তা দেখে রীতিমতো তাজ্জব হয়ে গেছেন দুঁদে অধ্যাপকও। ওই ছাত্র ১১টি প্লাস্টিক কলমের বডিতে সুঁই দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে পুরো সিলেবাস খোদাই করেছিলেন। এই ঘটনাটি বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

সাধারণত আইনের পাঠ্যক্রমে শত শত ধারা এবং নিয়ম মনে রাখা বেশ কঠিন। এই কঠিন কাজ সহজ করতে ওই ছাত্র একটি সূক্ষ্ম সুঁই ব্যবহার করে কলমগুলোর ওপর অতি ক্ষুদ্র অক্ষরে নোট লিখেছিলেন। দূর থেকে দেখলে কলমগুলোকে সাধারণ মনে হলেও, অত্যন্ত কাছ থেকে দেখলে বোঝা যায় সেখানে নিখুঁতভাবে সিলেবাস খোদাই করা হয়েছে। প্রতিটি অক্ষর এতই ছোট ছিল যে সাধারণ চোখে তা পড়া প্রায় আসাম্ভব।

পরীক্ষা চলাকালীন বারবার কলম ঘুরিয়ে দেখার সময় অধ্যাপক ইউলান্দো ডি লুচির নজরে পড়েন ওই শিক্ষার্থী। সন্দেহ হওয়ায় কলমগুলো পরীক্ষা করতেই অধ্যাপকের চক্ষু চড়কগাছ। দীর্ঘ কর্মজীবনে বহু নকলের ঘটনা দেখলেও এমন শৈল্পিক চুরির কৌশল তিনি আগে কখনও দেখেননি। সাধারণত এমন অপরাধে বহিষ্কারের নিয়ম থাকলেও, ছাত্রের ধৈর্য ও পরিশ্রম দেখে অধ্যাপক স্তম্ভিত হয়ে যান।

অধ্যাপক ইউলান্দো সম্প্রতি নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেই কলমগুলোর ছবি শেয়ার করে লিখেছেন, “অফিস পরিষ্কার করার সময় পুরনো এই কলমগুলো খুঁজে পেলাম। কয়েক বছর আগে এক ছাত্র এভাবে নকলের চেষ্টা করেছিল। একে জালিয়াতি বলব নাকি শিল্পকলা, তা বুঝতে পারছি না।” তার এই পোস্ট মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় এবং নেটিজেনরা ওই ছাত্রের ‘মাইক্রো-আর্ট’ দেখে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন।

যদিও ছাত্রের এই কাজ নৈতিকভাবে সমর্থনযোগ্য নয়, তবুও তার এই অসীম ধৈর্যকে অনেকেই এক প্রকার মেধা হিসেবে দেখছেন। সমালোচকদের মতে, ওই শিক্ষার্থী কলমের গায়ে সিলেবাস খোদাই করতে যে পরিমাণ সময় ও মেধা খরচ করেছেন, তার অর্ধেক মনোযোগ পড়াশোনায় দিলে হয়তো তিনি অনায়াসেই পরীক্ষায় শীর্ষস্থান অধিকার করতে পারতেন। সব মিলিয়ে এই অদ্ভুত নকলের কাহিনী এখন ইন্টারনেটে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *