কাঁটাতার আর বাধা নয়! এক টুরেই ভারত ও নেপাল ভ্রমণের সুবর্ণ সুযোগ

কাঁটাতার আর বাধা নয়! এক টুরেই ভারত ও নেপাল ভ্রমণের সুবর্ণ সুযোগ

ভারত ও নেপালের মধ্যে পর্যটন সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে নেপালের ঝাপায় অনুষ্ঠিত হলো ‘ক্রস-বর্ডার ট্যুরিজম কনক্লেভ ২০২৬’। শুক্রবার কাঁকরভিটা পর্যটন দফতর এবং নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের যৌথ উদ্যোগে মেচি ক্রাউন হোটেলে এই বিশেষ আসর বসে। এই অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ছিল দুই দেশের পর্যটন শিল্পকে একটি সাধারণ প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা এবং সীমান্ত সংক্রান্ত জটিলতা কাটিয়ে পর্যটকদের যাতায়াত আরও সহজতর করা।

পর্যটন বিকাশে মউ স্বাক্ষর ও যৌথ উদ্যোগ

এই কনক্লেভের সবথেকে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল ভারত ও নেপালের পর্যটন সংস্থাগুলোর মধ্যে সমঝোতা স্মারক বা মউ (MoU) স্বাক্ষর। এর ফলে এখন থেকে সিকিম, পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের পর্যটন ব্যবসায়ীরা নেপালের ব্যবসায়ীদের সাথে সরাসরি সমন্বয় রক্ষা করে কাজ করতে পারবেন। অনুষ্ঠানে কোশি প্রদেশের দর্শনীয় স্থান এবং ভারতের প্রতিবেশী রাজ্যগুলোর পর্যটন সম্ভাবনা নিয়ে বিশেষ তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।

বিদ্যমান সমস্যা ও পরিকাঠামো উন্নয়নের দাবি

কোশি প্রদেশের বিধায়ক গোপাল তামাং পর্যটন বিকাশে পরিকাঠামোগত অভাব ও সরকারি দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে সরব হন। তিনি জানান, ঝাপাকে পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে হলে কেবল পরিকল্পনা করলেই হবে না, বরং বিদেশি পর্যটকদের সাথে ব্যবহারের মান উন্নয়ন এবং দ্রুত বাস্তবায়নের দিকে নজর দিতে হবে। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের সিনিয়র ম্যানেজার সূর্য থাপালিয়া জানান, প্রতি বছর প্রায় ৩০ লক্ষ ভারতীয় পর্যটক নেপালে যান। এই বিশাল বাজারকে পূর্ণাঙ্গভাবে কাজে লাগাতে নেপালকে আরও দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

পরিসংখ্যানে আশার আলো

কাঁকরভিটা ইমিগ্রেশন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, পর্যটন খাতে উন্নতির লক্ষণ স্পষ্ট। শুধুমাত্র ফাল্গুন মাসেই ১০০০-এর বেশি বিদেশি পর্যটক এই সীমান্ত দিয়ে নেপালে প্রবেশ করেছেন। আশা করা হচ্ছে, চলতি আর্থিক বছরে এই সংখ্যা ৯০০০ ছাড়িয়ে যাবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নির্মীয়মাণ ‘এশিয়ান হাইওয়ে’ এই অঞ্চলের পর্যটন অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে।

আন্তর্জাতিক বিপণনে নতুন কৌশল

হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্ক (HHTDN)-এর সাধারণ সম্পাদক সম্রাট সান্যাল একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পেশ করেন। তাঁর মতে, ভারত ও নেপালকে পৃথক গন্তব্য হিসেবে না দেখে আন্তর্জাতিক মহলে একটি সমন্বিত পর্যটন সার্কিট হিসেবে তুলে ধরা প্রয়োজন। এতে উভয় দেশই অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে।

একঝলকে

  • আয়োজন: ক্রস-বর্ডার ট্যুরিজম কনক্লেভ ২০২৬, ঝাপা, নেপাল।
  • মূল লক্ষ্য: ভারত ও নেপালের পর্যটনকে এক সুতোয় গাঁথা এবং সীমান্ত ভ্রমণ সহজ করা।
  • বিশেষ পদক্ষেপ: দুই দেশের পর্যটন সংস্থাগুলোর মধ্যে মউ (MoU) স্বাক্ষর।
  • সম্ভাবনা: চলতি বছরে কাঁকরভিটা সীমান্ত দিয়ে ৯০০০ বিদেশি পর্যটক প্রবেশের আশা।
  • ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: এশিয়ান হাইওয়ে ব্যবহার করে যৌথ পর্যটন সার্কিট গঠন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *