কাউকে বেজন্মা বলা কি অপরাধ? অশ্লীলতার সংজ্ঞা নিয়ে বড় রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট

কাউকে ‘বেজন্মা’ বা ‘বাস্টার্ড’ বলে সম্বোধন করা অত্যন্ত অশোভন এবং অমার্জিত কাজ হতে পারে, তবে তা আইনত ‘অশ্লীলতা’র অপরাধ নয়। সোমবার এক মামলার শুনানিতে এমনই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ জানাল দেশের শীর্ষ আদালত। বিচারপতি পি এস নরসিমা এবং বিচারপতি মনোজ মিশ্রর ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট করেছে যে, কেবলমাত্র কটু বা অশালীন ভাষা ব্যবহার করলেই তাকে ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৯৪ ধারার আওতায় অশ্লীল হিসেবে গণ্য করা যাবে না।
আদালতের মতে, কোনো শব্দ বা ভাষাকে তখনই ‘অশ্লীল’ বলা যাবে, যদি সেটির মধ্যে স্পষ্ট যৌন ইঙ্গিত বা কামোদ্দীপক উপাদান থাকে। একটি পারিবারিক সম্পত্তি সংক্রান্ত বিবাদ চলাকালীন গালিগালাজ করার অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ২৯৪(বি) ধারায় মামলা দায়ের হয়েছিল। নিম্ন আদালতে তাঁরা দোষী সাব্যস্ত হলেও, সুপ্রিম কোর্ট সেই সাজা সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছে। আদালত জানায়, বিতর্ক বা বিবাদের সময় ব্যবহৃত এই ধরনের শব্দ মানুষের মনে যৌন উত্তেজনা বা লালসা তৈরি করে না।
রায়ে আরও বলা হয়েছে যে, দণ্ডবিধিতে ‘অশ্লীলতা’ শব্দটির নির্দিষ্ট কোনো সংজ্ঞা দেওয়া নেই। তবে পূর্ববর্তী বিভিন্ন মামলার নজির টেনে আদালত ব্যাখ্যা করেছে যে, অশ্লীলতা বলতে এমন কিছু বোঝায় যা যৌন চিন্তা উসকে দেয়। শুধুমাত্র অমার্জিত, অরুচিকর বা রুক্ষ ভাষা এই মানদণ্ডের আওতায় পড়ে না। সুতরাং, ভাষার ব্যবহার নিন্দনীয় হলেও সব ক্ষেত্রে তাকে ফৌজদারি অপরাধ বলা সম্ভব নয়।
এই রায় কার্যত স্পষ্ট করে দিল যে, অশোভন আচরণের আইনি সীমা কতখানি। সুপ্রিম কোর্টের মতে, কোনো ভাষা কারও কাছে অপছন্দের বা অসভ্য মনে হতে পারে, কিন্তু আইনের চোখে সেটি ‘অশ্লীল’ হিসেবে গণ্য হতে গেলে তাতে যৌন লালসার উপাদান থাকা বাধ্যতামূলক। এই পর্যবেক্ষণের ফলে অশ্লীলতা সংক্রান্ত মামলার আইনি ব্যাখায় নতুন দিক উন্মোচিত হলো।